কোটি টাকার জমি দখল সৎমাকে মৃত দেখিয়ে !

17
মরিয়ম বিবি

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোলে কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও খেয়ে না-খেয়ে অন্যের আশ্রয়ে রয়েছেন মরিয়ম নামে এক বিধবা নারী। ওয়ারিশ সনদের ফটোকপিতে জীবিত মরিয়ম বিবির নামের আগে মৃত লিখে জালিয়াতি করে তার কোটি টাকার সম্পদ নিজেদের নামে করে নিয়েছে সৎছেলে-মেয়েরা।

নিজের সম্পদ ফিরে পেতে গত কয়েক বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর সৎছেলে-মেয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে পরের বাড়িতে। মরিয়ম বিবি বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজ পুকুর গ্রামের মৃত টেনাই মোড়লের স্ত্রী।

প্রতিবেশী আব্দুল জলিল বলেন, টেনাই মোড়লের তিন স্ত্রী। তিনি জীবিত থাকাবস্থায় দুই স্ত্রীর মৃত্যু হলে মরিয়ম বিবিকে বিয়ে করেন। ২০০৮ সালে টেনাই মোড়লের মৃত্যু হয়। প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার ছেলে মেয়ে থাকলেও শেষের দুই স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান ছিল না। টেনাই মোড়লের মৃত্যুর কদিন পরেই প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা মরিয়ম বিবিকে স্বামীর ভিটে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর আমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

টেনাই মোড়লের সন্তানেরা ২০১২ সালে বেনাপোল পৌরসভা থেকে একটি ওয়ারিশ সনদ নেন। মূল ওয়ারিশ সনদ ফটোকপি করে মরিয়ম বিবির নামের আগে মৃত লিখে তা আবার ফটোকপি করে। আর এই ওয়ারিশ সনদ নিয়ে তারা মরিয়ম বিবির সকল সম্পদ তাদের নামে নামজারি করে নেয়।

বেনাপোল পৌরভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ঘটনাটি জানতে পেরে মরিয়ম বিবিকে জীবিত রয়েছে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন। সেটিসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণাদি নিয়ে আদালতের আশ্রয় নেন মরিয়ম বিবি। আইনজীবী বছর দুয়েকের মধ্যে তার জমি ফেরত পাবার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে সকল দলিল-প্রমাণাদি দেখে ২০১৯ সালে আদালত মরিয়ম বিবির পক্ষে রায় দেন।

আদালত মরিয়ম বিবিসহ টেনাই মোড়লের সকল ওয়ারিশদের নামে জমি নামজারি করার জন্য টেনাই মোড়লের ওয়ারিশদের কাছে নোটিশ পাঠান। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে টেনাই মোড়লের তিন ছেলে আলী হোসেন, নুর হোসেন ও রবিউল আদালতের কোনো নির্দেশ না পাওয়ার কথা বলে আদালতে পুনরায় আপিল করেন। কিন্তু আজ দুই বছর পার হলেও এখনো তার কোনো সুরাহা হয়নি।

বৃদ্ধ মরিয়ম বিবি বলেন, আমার স্বামী টেনাই মোড়ল জীবিত থাকা অবস্থায় ভিটেবাড়ি থেকে আমার নামে ১০ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। তিনি মারা যাওয়ার পর আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে ভিটে থেকে তাড়িয়ে দেয়। এখন প্রতিবেশী আব্দুল জলিলের জমিতে কুঁড়েঘরে বাস করছি। ওয়ারিশ সূত্রে আমি সাড়ে ছয় বিঘার মতো জমি পাব। যার বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপর। সব কিছু থাকলেও আমি অর্থাভাবে নিজেই নিজের খাবার যোগাড় করতে পারছি না। জমি উদ্ধার করতে এখন আদালতের খরচ বহন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠছে না।

বেনাপোল পৌরসভার কাগজ পুকুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আমিরুল ইসলাম জানান, টেনাই মোড়লের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১৬ একর। মৃত্যুর আগে তিনি তার তৃতীয় স্ত্রী মরিয়ম বিবির নামে ভিটে থেকে ১০ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। টেনাই মোড়লের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা বেনাপোল ভূমি অফিসের তৎকালীন নায়েব আব্দুল মজিদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পৌরসভার দেওয়া ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে জীবিত মরিয়ম বিবিকে মৃত দেখিয়ে সকল জমি নিজেদের নামে নামজারি করে নেয় তারা। পরে সৎমা মরিয়ম বিবিকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মরিয়ম বিবি যে জীবিত আছে তার প্রত্যয়নপত্র পৌরসভা কর্তৃক দেওয়ার পর মরিয়ম বিবি আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় মরিয়ম বিবির নামে আসলেও সন্তানরা তার জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আদালতে আবার আপিল করেছেন।

Previous article১৪ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল মাতাবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল
Next articleসাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here