যশোর আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটির বিশেষ অভিযানে টাউট ইদ্রিস আটক

30

কল্যাণ রিপোর্ট : কখনো সাংবাদিক, কখনো আইনজীবী, কখনো শ্রমিক নেতা আবার কখনো আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ধারী যশোরের চিহ্নিত প্রতারক ইদ্রিস আলমকে আটক করা হয়েছে। ইদ্রিস আলম যশোর সদর উপজেলার পূর্ব পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটি ইদ্রিসকে যশোরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তিন তলা থেকে হাতে নাতে আটক করে।
পরে সমিতির পক্ষ থেকে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এসময় ইদ্রিস আলমের কাছ থেকে বিভিন্ন অক্ষাত পত্রিকার ৫টি পরিচয়পত্র, দুইটি পেনড্রাইভ চারটি মোবাইল ও শ্রমিক ইউনিয়নের দুইটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি ও টাউপ উচ্ছেদ কমিটির আহবায়ক খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল। তিনি জানান, এসময় ইদ্রিসের ঘনিষ্ট সহকারী টিটো ও তার কম্পিউটার অপারেটর নাইম নামের দুইজন পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ইদ্রিস একসময় আইনজীবী সহকারী ছিলেন। পরে শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তারা বিরুদ্ধে সমিতিতে নানা প্রতারণা অভিযোগ আসে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমানও পাওয়া যায়। একপর্যায় তাকে বহিস্কার করা হয়। একই সাথে আদালত চত্তরে না আসার জন্যও বলা হয়। কিন্ত তিনি সমিতির স্বীদ্বান্ত না মেনে প্রতিনিয়ত আদালতে আগেরমত আদালতে এসে বিচারপ্রার্থীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা শুরু করে। বিষয়টি সমিতির নজরে আসে। সমিতির স্বীদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ অভিযানে তাকে হাতে নাতে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম শাহীন বলেন, আদালত চত্তরে ইদ্রিস বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে জড়িত। যা তারা প্রমান পেয়েছে। তারা আরও বলেন অনিয়ম দূর্নীতির বিপক্ষে সমিতি কঠোর অবস্থানে। কোনো ধরণের অনিয়মের ছাড় দেবেন না তারা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ আদালতে যেয়ে ইদ্রিস আলমকে হেফাজতে নেন। ইদ্রিস আলমের সার্বিক বিষয় নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ইদ্রিস আলমের বিরুদ্ধে যশোর আইনজীবী সমিতিতে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন থানা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও ভুক্তোভোগিরা অভিযোগ দিয়েছেন। এরবাইরেও মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর নামে চার লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে তিনি বিভিন্ন সময় মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন। একপর্যায় আদালত চত্তরে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমিতি। তারপরও তিনি নিয়মিত যাতায়াত অব্যহত রাখেন। শেষ মেষ বৃহস্পতিবার ইদ্রিসকে আটক করা হয়।

Previous articleসংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শেখ হাসিনার নির্দেশ
Next article‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিক মুক্তি পাবে আগামী বছর মার্চে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here