বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তালেবান সহিংসতা বাড়ছে : জাতিসংঘ

8

 


কল্যাণ ডেস্ক : আফগানিস্তানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে তালেবান ক্রমেই আরও বেশি সহিংস হয়ে উঠছে। তারা গুলি ছুড়ছে, বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা, চাবুকপেটা করছে। এসব সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪ বিক্ষোভকারী মারাও গেছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রবিনা সামদাশানি জেনেভায় শুক্রবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি কয়েকদিনে গুলিতে ওই চার বিক্ষোভকারী মারা যাওয়ার বিশ্বাসযোগ্য খবর তারা পেয়েছেন বলেও জানান রবিনা।
তালেবান গতমাসে কাবুল দখলের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময়ে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। প্রায়শই এইসব বিক্ষোভ-প্রতিবাদে রাস্তায় নামছেন নারীরা।
গুলি ছুড়ে, পিপার স্প্রে ছুড়ে, মারধর করে এসব বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করছে তালেবান সদস্যরা। জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রবিনা বলেন, “আমরা তালেবানের ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া দেখেছি, এটি দুঃখজনক।”
বিক্ষোভকারীদের মারধর করা, আটক করার পাশাপাশি বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও তালেবান বেশি মাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করছে বলে জানান তিনি।
এ সপ্তাহের শুরুতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ-সমাবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছিল তালেবান। তবে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় বলছে, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ না করে তালেবানের বরং উচিত শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করা, মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে দেওয়া, তাদের মতামত, উদ্বেগ প্রকারে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অধিকার দেওয়া।”
কিন্তু তালেবান তা না করে বরং উল্টো বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ করছে এবং বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে-এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান রবিনা।
ওদিকে, আফগানিস্তানে অবস্থান করা জাতিসংঘের কর্মীরাও তালেবানের হাতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই অভিযোগ করেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেবোরাহ লায়ন্স।
তালেবানের হাতে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সদস্যদের হয়রানির ঘটনা বেড়ে চলেছে এবং জাতিসংঘ এ নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান তিনি। তালেবান কাবুল দখলের আগে থেকেই একাধিক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে জাতিসংঘ নথিতে।
ওই সময় থেকে তালেবান সদস্যদের কাছে জাতিসংঘের কর্মীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হওয়াসহ জাতিসংঘের নানা কার্যালয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, নানা হুমকিও আসছে তালেবানের কাছ থেকে।
আফগানিস্তানের মানুষের জন্য জাতিসংঘের কর্মীদের দেশটিতে থাকা দরকার। কিন্তু কর্মীরা জীবনের ঝুঁকির মধ্য থাকলে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন লায়ন্স।

Previous articleসম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সুকুমার সভাপতি দুলু সম্পাদক
Next articleসংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here