পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যায় যুবকের ফাঁসি

18

কাজী শওকত হোসেন ময়না,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চান জনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা হয়েছে। সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নিহত শাহীনুর রহমানের ভাই ও মামলার একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মুত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ। তিনি জানান, এ রায় সাতক্ষীরার ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে (২০ কার্যদিবস) দেওয়া হত্যা মামলার রায়। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম হায়দার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের ছোট ছেলে রায়হানুর রহমান (৩৬) বেকারত্বের কারণে বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে খাওয়া দাওয়া করতো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনও কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি স্ত্রী তালাক দেয় রায়হানুর রহমানকে। সংসারে টাকা দিতে না পারায় শাহীনুরের স্ত্রী দেবর রায়হানুরকে মাঝে মধ্যে গালমন্দ করতেন।


এরই জের ধরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই শাহীনুর রহমান (৪০), ভাবি সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে ব্রজবক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসমিন সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় এ মামলার একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমান। এরপর ভোর চারটার দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদেরকে একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন তিনি। এ সময় তাদের চার মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে তাকে লাশের পাশে ফেলে রেখে যায় রায়হান।
এ ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শাশুড়ি কলারোয়া উপজেলার উফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজীর স্ত্রী ময়না খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি শাহীনুরের ভাই রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে রায়হানুর নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে। গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামি রায়হানুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

Previous articleএগিয়ে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
Next article২২৫০ পিস ইয়াবা খেয়ে ফেললেন এই নারী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here