জিএম আল ফারুক, আশাশুনি: আইলা, সিডর ও আম্পানে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে ১ যুগ। সদরের একটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে ও খাল হয়ে প্রতাপনগরের কয়েকটি গ্রামকে দ্বিখন্ডিত করেছে।
আইলা, সিডর ও আম্পানে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের দয়ারঘাট, জেলেখালী, নিমতলা ও বলাবাড়িয়া পাউবোর ভেড়িবাঁধ ভেঙে মানিকখালী, বড় দুর্গাপুর ও বলাবাড়িয়া মৌজার কয়েক হাজার বিঘার মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়। দক্ষিণাঞ্চলের সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি চাষিদের মাথায় হাত ওঠে। ভেসে যায় শত শত কোটি টাকার বাগদা চিংড়ি। এ সময় গবাদী পশু, হাস-মুরগী, বাঁশগৃহ ও রাস্তাঘাট চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাঁধ ভাঙন দেখে দিশেহারা হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন নদীর পানি লোকালয়ে জোয়ার ভাটায় ওঠে আর নামে। ৩-৪ বছর বাঁধ ফেলে রাখার পর খুলনার এক ব্যবসায়ী ৫-৬ বছর প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমির হারি না দেয়ার শর্তে বাঁধবন্দি করে। ৫-৬ বছর যাওয়ার পর বিঘাপ্রতি এক দেড় হাজার টাকা হারির মাধ্যমে খুলনার ওই ব্যবসায়ী ঘের করে। এভাবে চলতে থাকার পর গত বছর আম্পানে পুনরায় দয়ারঘাটসহ সদরের কয়েকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাঁগদা চিংড়ি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নদী ভাঙতে ভাঙতে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের জেলেখালী নামক গ্রামটি এখন শুধু ম্যাপে আছে। কিন্তু বাস্তবে পুরা গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া খোলপেটুয়া নদীর পানি বৃদ্ধি হলেই শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী, কোলা-ঘোলা পাউবোর বাঁধ ভেঙে যায়। শ্রীউলা ইউনিয়নের আনুমানিক ১৫ হাজার বিঘা জমির বাগদা চিংড়ির ঘের প্লাবিত হয়। এসময় গবাদী পশু, বাসগৃহ ও রাস্তা-ঘাট চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এভাবে প্রতি বছর ভাঙনের ফলে শ্রীউলা ইউনিয়নকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে ১ যুগ। অপরদিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নে প্রতি বছর কুড়িকাহুনিয়া, রুইয়ারবিল, সুভদ্রাকাটি সহ কয়েকটি বাঁধ ভেঙ্গে প্রতাপনগর প্লাবিত হয়। এতেও গবাদী পশু, বাসগৃহ ও রাস্তা-ঘাট চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গাছ-গাছালী মরে মরুভূমির মতন হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি, পানি সম্পদ মন্ত্রী ও পাউবোর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।