মো. মিজানুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা): চলতি বোরো মৌসুমে তালা উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে বোরা ধান চাষাবাদ হয়েছে। এবারের বোরো মৌসুমে অন্যবারের ন্যায় ব্রি-২৮, ব্রি-৬৩, ব্রি-৮১ ও হাইব্রিডসহ বিভিন্ন প্রজাতীর ধান চাষ করেছে কৃষকরা। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ধানের বাম্পার ফলন আশা করেছিল চাষিরা। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবছরও ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট ভাইরাসের আক্রমণে মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ব্লাস্টের আক্রমণে হাজার হাজার ছোট বড় কৃষক সর্বস্বান্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তালা উপজেলায় বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১৯ হাজার ৫ শত ৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়।
ধানের চারা রোপণের শুরুতে ধানের ক্ষেত বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়। কৃষকরা সেটার রোধ করতে সক্ষম হলেও এখন ধান ওঠার মুখে ব্লাস্ট ভাইরাসের আক্রমণে ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
তালা উপজেলা খলিষখালী, সোনাবাঁধাল, দলুয়া, আগোলঝাড়া, জাতপুর, আটরই, খলিনগর, তেঁতুলিয়া, খেশরা, ধানদিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিলে যেয়ে দেখা যায়, ধান ক্ষেতগুলোতে বাম্পার ফলন এসেছে। কিন্তু এই ধান ক্ষেতের মধ্যে শত শত হেক্টর ক্ষেত ব্লাস্ট এর আক্রমণের শিকার হয়েছে।
কৃষক পবিত্র কুমার, গোলাম রাব্বানী, আব্দুল আওয়াল, আবুল কালামসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, ধান গাছে শীষ আসার সময়ে অনেক ক্ষেতের ধান গাছ বৃদ্ধি না হয়ে ছোট হয়ে আসছে। ব্লাস্টের আক্রমণে কোথাও কোথাও ধান গাছের পাতা পুড়ে আবার কোথাও গাছ পচে-গলে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কোথাও ধানের শীষ কালচে রং ধারণ করে ধান ঝরে গেছে। ধানের শীষে শুধু চিটা পড়ে রয়েছে।
তেঁতুলিয়ার কৃষক আবু জাফর জানান, এবারের মৌসুমে প্রথমে কারেন্ট পোকা আক্রমন করলেও সেটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু এখন ধানের ফলনের সময় ব্লাস্টের আক্রমণে যে ক্ষতি হলো তা পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
এ ব্যপারে তালা উপজলো কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে তালা উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ৭৮ হেক্টর জমির ধান ব্লাস্ট আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু কৃষি অফিসের সার্বিক তদারকি এবং সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার ফলে ব্লাস্ট দমন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু উপজেলার ৫ হেক্টর জমির ব্রি-২৮ জাতের ধান ব্লাস্ট হতে রক্ষা করা যায়নি।
তিনি বলেন, মাঠের বোরো ধান কাটা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যা মে মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ শেষ হবে। এর মধ্যে আরও কিছু ক্ষেতের ধান ব্লাস্টে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। তবে, তা রুখতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিশেষ করে ব্রি-২৮ জাতের ধান ব্লাস্ট আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে এই জাতের ধানের অধিকাংশ বীজ ব্লাস্ট আক্রান্ত। ফলে বীজ থেকে ব্লাস্ট ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়ে পরবর্তীতে ধান গাছ, পাতা, কান্ড ও শীষ আক্রান্ত হয়। এ জন্য কৃষকদের ব্রি-২৮ ধান রোপণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।