খুলনা ও বাগেরহাট প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় মোখা ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে রোববার (১৪ মে) সকাল পর্যন্ত এসব এলাকার আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল। উপরন্তু ভ্যাপসা গরম পড়েছে শহরগুলোতে।
তবে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবাসী আতঙ্কিত হলেও এর কোনো প্রভাব পড়েনি, নেই বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো বাতাস, উল্টো প্রখর রোদে অতিষ্ঠ জনজীবন। সকাল থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলায় রোদ আর মেঘের লুকোচুরি চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় মোট ১ হাজার ৪৪২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যার ৮৭ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ২৫ কিলোমিটার অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বাঁধ পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ ও সিন্থেটিক ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দফতরটি।
খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর মহেশ্বরীপুর, গাতিরঘেরি ও কাটকাটা এলাকায় বাঁধ ধসে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষ। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদীতে পানি বাড়লে ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিক সময়ের মতো প্রবাহিত হচ্ছে।
কয়রার নদীবেষ্টিত বটবুনিয়া এলাকার ইস্রাফিল শেখ বলেন, ‘যেকোনো দুর্যোগে আমাদের এ অঞ্চল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এবার আল্লাহর রহমতে তেমন কোনো প্রভাব নেই। নদী স্বাভাবিক রয়েছে। আবহাওয়াও ভালো। আকাশে কোনো মেঘ নেই।’
বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক আলমগীর মোল্লা বলেন, ‘খবর শোনার পর খুব চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। আল্লাহ যেন কোনো বড় বিপদ না দেন।’ তবে প্রভাব না থাকলেও ঝড় মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রতিটি জেলার স্থানীয় প্রশাসন।
খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, জেলায় ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১১৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের জন্য শুকনা খাবার, পানি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এ ছাড়া নির্দেশনা অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সকাল থেকে সুন্দরবনের আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। এখনও কোনো সমস্যা নেই।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা সদর ও প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ৯ উপজেলায় ৮৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, জেলায় ১৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৭১৮ স্কুল-কলেজকে বিকল্প আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ মানুষের ধারণাক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া ৪১৬ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ৫ হাজার সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে মোখার সম্ভাব্য বিপদ সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ।বন্দরে নিজস্ব সতর্কসংকেত অ্যালার্ট-২ জারি করা হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বন্দরের স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
