অ্যালবেনিজমে আক্রান্ত হওয়ায় বাবার স্বীকৃতি ও সমাজের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত যশোরের শিশু আফিয়া ও তার মায়ের জন্য নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মানবিক এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক
গায়ের রং ছিল অস্বাভাবিক রকমের ফর্সা। সেই অপরাধেই জন্মের পরই বাবার স্বীকৃতি পায়নি ছোট্ট আফিয়া। আলবেনিজমে আক্রান্ত এই শিশুটির নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়েও যে বাবা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সমাজও যেন তাকে বঞ্চনার অন্ধকারেই ঠেলে দিয়েছিল। যশোরের সেই অবহেলিত শিশুর জীবনে ছিল কেবল লাঞ্ছনা, কষ্ট আর না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।
কিন্তু ভাগ্য কখনো কখনো দয়া করে। অন্ধকারের বুক চিরে আলো নামে। ঠিক তেমনই এক মানবিক মুহূর্তে বদলে গেল আফিয়ার জীবন।
অতি ফর্সা গায়ের রঙের কারণে অধিকারবঞ্চিত সেই শিশু আফিয়াকে প্রতিশ্রুত নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আফিয়া ও তার মায়ের জন্য নির্মিত নতুন ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।
অনুষ্ঠানে আবেগভরা কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন,
দেশ গড়তে শুধু অবকাঠামোগত সংস্কার নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন। রাজনীতি যেন কেবল স্লোগান, মিছিল বা দোষারোপে সীমাবদ্ধ না থাকে—আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে, মানুষের চোখের জলের জবাব দেওয়ার রাজনীতি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে শক্তিশালী করা হবে। ফের চালু হবে খাল কাটা কর্মসূচি, দূর হবে পানির কষ্ট। গ্রামে বসেই মানুষ যেন চিকিৎসা পায়—সে লক্ষ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
নারী সমাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষিত নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি অবহেলিত মসজিদের ইমাম, খতিবসহ ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হবে—যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারেন।
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নতুন ঘর পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন শিশু আফিয়ার মা মনিরা খাতুন। চোখের জল মুছতে মুছতে কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আমার মেয়েকে মানুষ হিসেবে দেখেছেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছেন—এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবার নয়।”
তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল বিএনপি নেতৃবৃন্দও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘর শুধু ইট-সিমেন্টের নয়—এটি আফিয়ার জন্য নতুন জীবনের শুরু, সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার একটি ঠিকানা।
ছোট্ট আফিয়ার চোখে আজ আর শুধু প্রশ্ন নেই—আছে নিরাপত্তা, আছে ভবিষ্যতের স্বপ্ন, আছে আশ্রয়ের নিশ্চয়তা।
