সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানানো হয়েছে। সমাধানে পর্যায়ক্রমে অগ্রগতি হচ্ছে। -মামুন মাহমুদ, উপপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস।
ইয়াসিন আলী, খুলনা
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনা বিভাগের আওতায় ৬০টি স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে ২২৩টি পদে জনবল নেই। অধিকাংশ স্টেশনে নেই ফায়ার ফাইটার, চালক ও স্টেশন অফিসার। নেই পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। এ অবস্থায় ধুঁকে ধুঁকে চলছে খুলন বিভাগীয় শহরের ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলছেন, একদিকে পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম নেই। অন্যদিকে অগ্নিনির্বাপণে গিয়ে পানির উৎসের অভাব, বৈদ্যুতিক ও ডিশের তার, সরু সড়ক ও উৎসুক জনতার কারণে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেছেন তারা।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১০টি জেলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৬৫টি স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে ‘এ’ শ্রেণির আটটি (জনবল প্রতিটিতে ৩৫ জন), ‘বি’ শ্রেণির ৪৪টি (জলবল প্রতিটিতে ২৭ জন), ‘সি’ শ্রেণির সাতটি (জনবল প্রতিটিতে ১৬ জন) ও নদী ফায়ার স্টেশন একটি (জনবল ১২ জন)। এসব স্টেশনে ১ হাজার ৬৮৮ জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ জন। ২২৩টি পদ শূন্য। এর মধ্যে উপসহকারী পরিচালক ১০টির মধ্যে একটি, সহকারী যোগাযোগ প্রকৌশলীর একটির মধ্যে একটি, স্টেশন অফিসার ৬৪ টির মধ্যে ৪৭টি, ফায়ার অফিসার ১১টি মধ্যে সাতটি, মবিলাইজিং অফিসার তিনটির মধ্যে তিনটিই, সাব অফিসার ৪৭টির মধ্যে একটি, লিডার ১৩১টির মধ্যে সাতটি, ফায়ার ফাইটার ১ হাজার ১৩টির মধ্যে ১২৬টি, ড্রাইভার ২৫৮টির মধ্যে ১৭টি পদ শূন্য।
অগ্নিনির্বাপণ কাজের জন্য রয়েছে পানিবাহী গাড়ি ৫৮টি, ছোট কাভার্ডভ্যান ৫৩টি, মহড়ার কাজে সরঞ্জাম নেওয়ার জন্য ১১টি গাড়ি, মহড়ার জন্য জনসংযোগ করতে একটি গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ২২টি, পাজেরো চারটি, পাম্প ১০৩টি, বিশেষ গাড়ি ১৩টি ও জলযান পাঁচটি।
ফায়ার সার্ভিসের একাধি সদস্য জানান, অগ্নিনির্বাপণের সময় স্পটে যাওয়ার পথে ও যাওয়ার পর পানির উৎসের অভাব, বৈদ্যুতিক ও ডিশ লাইনের নিচু করে রাখা তার, সরু সড়ক, রাস্তায় থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় খুঁটি দিয়ে তৈরি নিচু গেট রাখার কারণে দ্রুত কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। আর আগুন লাগার পর উৎসুক জনতার কারণেও সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া জনবল স্বল্পতা, ডুবুরি ইউনিটের অপ্রতুলতা, গাড়ির স্বল্পতা, বেতার যোগাযোগের বিঘ্নতা, বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ফায়ার সেফটি বাস্তবায়ন না করায় সমস্যায় পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্ঠ একাধিক সূত্র থেকে জানা জায়, খুলনা সদর ও টুটপাড়া স্টেশন ভবনটি পুরনো ও জরাজীর্ণ। অনেক সময় ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। আবার গাড়ি, কম্পিউটার, ওয়ারলেস যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জরাজীর্ণ ভবনে বাস করেন ১৫০ জন ফায়ার কর্মী। যাদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের জন্য কোয়ার্টার ছিল, কিন্তু সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম জানান, ‘দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পুরনো ভবন অপসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। এর ফলে যানবাহন সুরক্ষা ও ঝুঁকিতে থাকা ফায়ার সদস্যদের নিরাপদ আবাসন গড়ে উঠবে। আর সুষ্ঠুভাবে ফায়ার কার্যক্রম গতিশীল করতে অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করা প্রয়োজন।’
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মামুন মাহমুদ বিএফএম বলেন, ‘বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। ফায়ার সার্ভিসের অপরেশনাল কর্মকাণ্ডে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি স্টেশনে জনবলসহ যন্ত্রপাতি চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অগ্রগতি হচ্ছে।’
সর্বশেষ
- খুলনা বিভাগে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী, শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হাইকমান্ড
- মায়ের পথচলা যেখানে থেমেছে, সেখান থেকেই এগিয়ে নেওয়ার শপথ তারেক রহমানের
- বেনাপোল কাস্টমসের শীর্ষ পদে পরিবর্তন, বদলি ১৭ কমিশনার
- জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত খালেদা জিয়া
- মায়ের জানাজায় দোয়া চাইলেন ছেলে
- খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত
- যতদূর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ
- খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিচ্ছেন ৩২ দেশের কূটনীতিক
