নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিয়ের আয়োজনের ধুম পড়েছে। শহর-গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, কারণ অনেক পরিবার ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন। প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনের দেশে ফেরা, স্কুল-কলেজের ছুটি এবং অনুকূল আবহাওয়া এই সময়ে বিয়ের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে-বিকালে বাড়ির সদস্যরা বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকেন। বিশেষ করে পাত্র-পাত্রীর পরিবার ও ঘটকরা সর্বোচ্চ সময় পার করছেন। বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা দাওয়াতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটক মো. রওশন আলী জানান, “ঈদের আগে-পরে আমাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক পরিবার দ্রুত বিয়ের জন্য যোগাযোগ করছে। আগের তুলনায় এখন ছেলে-মেয়েদের পছন্দের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।”
আবার রূপজান বেগম বলেন, “প্রবাসী ছেলেরা বিয়ের জন্য ঈদের সময়টাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে সম্বন্ধ ঠিক করে বিয়ের আয়োজন করতে হয়, যা চ্যালেঞ্জিং হলেও আনন্দের।” তিনি জানিয়েছেন তিনটি বিয়ে ঈদের পর সম্পন্ন হবে।
যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. রাকিবুল আলম জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে কমিউনিটি সেন্টার এবং কেটারিং সার্ভিসের বুকিং আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিউটি পার্লারগুলোতেও ঈদের পর ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল খান জানান, “পাত্র পছন্দ হওয়ায় আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। ঈদের পর অনুষ্ঠান করে মেয়েকে পাত্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চেষ্টা করছি।”
“ঈদের ছুটিতে বিয়ের এই রেওয়াজ আমাদের সমাজে এখন ঐতিহ্যের অংশ। আত্মীয়তা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে এই প্রথা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঈদের আনন্দ আর বিয়ের অনুষ্ঠান একসঙ্গে হওয়ায় অনেকেরই আনন্দ বেড়ে যাবে।”
যশোর জেলা কাজী সমিতি জানায়, প্রতি বছরের দুই ঈদের পর যশোরে বিয়ের হিড়িক পড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না, কারণ অনেকেই ঈদের আনন্দ এবং বিয়ের আয়োজন একসঙ্গে করতে চান। এতে আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পায় এবং ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়।
