যশোর সদর যশোর–এর চাঁচড়া ইউনিয়নের বর্মণপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তত ১৩টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ ওই খুঁটির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতিদিনই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে কাঠের তৈরি ওই বিদ্যুতের খুঁটি গোড়া ও মাঝখান থেকে ভেঙে যায়। এরপর সেটি কোনোভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও তা অত্যন্ত দুর্বল ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। খুঁটিটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন।
বর্মণপাড়ার বাসিন্দারা বলেন, ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাস হলে খুঁটিটি দুলতে থাকে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়। আশপাশে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই এলাকায় আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই ঘটনার পরও খুঁটিটি পরিবর্তন না হওয়ায় তারা আরও উদ্বিগ্ন। অনেকেই মনে করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তারা গত এক বছরে অন্তত চারবার পুলেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেছেন। তবে প্রতিবারই আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বিষ্ণু বর্মন বলেন,
“খুঁটিটি এখন একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি।”
এ বিষয়ে পুলেরহাটস্থ যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জানায়, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী সুকেন্দ্র নাথ সরকার বলেন,
“আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঈদের ছুটির পর ২ তারিখে নতুন একটি খুঁটি পাঠানো হবে। এরপর দ্রুতই পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি পরিবর্তন করে সমস্যা সমাধান করা হবে বলে আশা করছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড–এর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাজ পরিচালনা করে থাকে।
গ্রামবাসীরা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিটি অপসারণ করে নতুন ও নিরাপদ খুঁটি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তাদের প্রত্যাশা, আর দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যাতে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
