নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের আলোচিত তানভীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাব্বি ইসলাম মুসাকে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে মনিরামপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্প।
মুসা যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ‘ভয়ংকর’ নামেই। তানভীর হত্যার পর থেকেই এলাকায় চাপা আতঙ্ক আর গুঞ্জন চলছিল—কে এই হত্যার নেপথ্যে? তদন্তের অগ্রগতিতে দ্রুতই সামনে আসে মুসার নাম। তিনি ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।
হত্যার সেই রাত
গত ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে যশোর শহরের বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের পেছনে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান তানভীর। শংকরপুর হাজারিগেট কলোনির বাসিন্দা মিন্টু গাজীর ছেলে তানভীর নিজেও একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। তবে যেভাবে তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়, তা শহরের অপরাধ পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।
গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের নাটকীয়তা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মনিরামপুরে মুসার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেখানেই শেষ নয়—গ্রেপ্তারের পর তাকে সঙ্গে নিয়ে শংকরপুরে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপে বিশেষ কায়দায় মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হয় পাঁচটি ককটেল।
জিজ্ঞাসাবাদে মুসা অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করলে বাড়িতে আরও তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী মুক্তা খাতুনের কাছ থেকে একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। তবে মূল অস্ত্রটি এখনও উদ্ধার হয়নি। অস্ত্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় মুক্তা খাতুনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী
র্যাব সূত্র জানায়, মুসা যশোরের একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি র্যাবের তালিকাভুক্ত ১৩ নম্বর আসামি এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাতেও তার নাম রয়েছে। শহরের অপরাধ জগতের নানা ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বর্তমানে তানভীর হত্যা মামলা, উদ্ধারকৃত ককটেল ও অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে মুসা ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যশোরের অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
