নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষাসফরের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসাইন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কমিটিকে প্রথমে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে সময় আরও দুই কার্যদিবস বাড়ানো হয়।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে গঠিত অভিযোগ কমিটিকে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে সব একাডেমিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিভাগীয়ভাবে প্রয়োজনীয় লিখিত বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে নেওয়া হয়। সফরে বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন। ওই সফরের এক পর্যায়ে এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রভাষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
ক্যাম্পাসে ফিরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বরং ঘটনাটি ‘মুচলেকার মাধ্যমে’ সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার পর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
