নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রিশ দিনের সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো পবিত্র রমজান মাস। হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে সাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে আবারও এসেছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর অমর গীতির মতো—“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”—এই আনন্দ আজ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে।
আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন সকালে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই ঈদগাহ ও মসজিদে একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হবে। এরপর কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বেড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনন্দঘন আয়োজন।
যশোরে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
যশোর জেলায় ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার আট উপজেলার ৯৩টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোর কার্যালয়।
সংস্থাটির উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম জানান, যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলা মডেল মসজিদ, পুলিশ লাইন জামে মসজিদ, চাঁচড়া, কারবালা, ওয়াপদা কলোনি, বায়তুল মামুর, রেল রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোতে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে ৯টার মধ্যে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপক প্রস্তুতি
যশোরের কেশবপুর, মণিরামপুর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলাসহ জেলার প্রতিটি এলাকায় ঈদের জামাতের জন্য নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অধিকাংশ ঈদগাহে সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। কোথাও কোথাও মুসল্লিদের সুবিধার্থে একাধিক জামাতের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের ঈদগাহগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মাঠ পরিষ্কার, মাইকিং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব কিছুই সাজানো হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন।
নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি
ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঈদের খুতবায় ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য ইমাম ও খতিবদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আনন্দে মিলবে হৃদয়
ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার এক অনন্য বন্ধন। এদিন পাড়া-প্রতিবেশী একে অপরের খোঁজ নেবেন, নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, আর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ভাগাভাগি করবেন আনন্দ।
সব মিলিয়ে, সিয়াম সাধনার পর আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা বুকে ধারণ করে খুশির ঈদকে বরণ করতে প্রস্তুত পুরো দেশ—বিশেষ করে যশোরবাসী।
