নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদরের নালিয়া বাজার থেকে ধানঘাটা পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং কাজকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কাজটি বাগাতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় এক ঠিকাদার ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে সদ্য নির্মিত কার্পেটিংয়ের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডি সূত্র জানায়, বাউলিয়া-কতুবপুর সড়কের নালিয়া বাজার থেকে ধানঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার কার্পেটিং কাজের দায়িত্ব পায় এসএসএম ইন্টারন্যাশনাল। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
যশোর সদরের নালিয়া বাজার–ধানঘাটা সড়কের প্রায় ৫৭ লাখ টাকার কার্পেটিং কাজকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কাজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ সদ্য বিছানো পিচ খুঁচিয়ে তুলে ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি; এলজিইডির পরিদর্শনে উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রুটিও পাওয়া যায়নি।
এসএসএম ইন্টারন্যাশনালের দাবি, স্থানীয় আসাদ নামে এক ঠিকাদার তাদের কাছ থেকে কাজটি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। গত সপ্তাহে কার্পেটিং চলাকালে একটি স্থানে রোলার ঘোরানোর সময় সামান্য ফাটল সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ওই অংশে পুনরায় রোলার চালানোর আগেই কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি দিয়ে সদ্য বিছানো পিচ খুঁচিয়ে তুলে ভিডিও ধারণ করেন এবং সেটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন।
এসএসএম ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রূপম জয়ধর বলেন, নতুন কার্পেটিংয়ের ক্ষেত্রে বিটুমিন ও পাথরের বন্ধন (বন্ডিং) সম্পূর্ণভাবে শক্ত হতে কিছু সময় লাগে। কার্পেটিংয়ের সময় বিটুমিনের তাপমাত্রা সাধারণত ১৪০ থেকে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। এ অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেউ খোঁচালে বা টান দিলে পিচ উঠে আসা অস্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সড়কের কাজের মান যাচাইয়ের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হলো কাজ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা। কাঁচা অবস্থার কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে কাজের মান নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
এদিকে কার্পেটিং তুলে ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যশোর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল রাজিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিদর্শনে তারা কাজে উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রুটি পাননি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ঠিকাদার আসাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
