নিজস্ব প্রতিবেদক
সময়ের হিসাবে কেটে গেছে একটি বছর। ক্যালেন্ডারের পাতায় বদলে গেছে দিন-তারিখ। কিন্তু দৈনিক কল্যাণ পরিবারের কাছে যেন সবকিছু এখনো গতকালের মতোই। সন্ধ্যা নামলেই অফিসের সেই পরিচিত কক্ষে অজান্তেই চোখ চলে যায় একটি নির্দিষ্ট চেয়ারের দিকে। মনে পড়ে যায় একজন নীরব কর্মযোদ্ধার কথা, যার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় প্রতিদিন প্রাণ পেত দৈনিক কল্যাণের প্রতিটি পৃষ্ঠা। সেই মানুষটি আর কেউ নন—পত্রিকাটির গ্রাফিক্স ডিজাইনার মরহুম আবু সাঈদ সাগর।
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট, সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের স্ট্রোক ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । হৃদরোগ ও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে পৃথিবীর সব ব্যস্ততা, স্বপ্ন, জমানো ব্যথা আর না বলা অসংখ্য কথা রেখে তিনি পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে।
২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি তাকে।
দৈনিক কল্যাণে আবু সাঈদ সাগরের কর্মজীবন ছিল নীরব অথচ অসাধারণ দায়িত্ববোধে ভরপুর। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর অফিসে এসে নিজের কাজে ডুবে যেতেন তিনি। সংবাদ, ছবি ও শিরোনামকে নান্দনিক উপস্থাপনায় পাঠকের সামনে তুলে ধরতে তার ছিল অসাধারণ দক্ষতা। নিজের কাজ নিয়েই থাকতেন, প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিষ্ঠা আর আন্তরিকতাকেই করে তুলেছিলেন নিজের পরিচয়।
আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সহকর্মীদের স্মৃতিতে তিনি রয়েছেন আগের মতোই জীবন্ত। তার ব্যবহারের আন্তরিকতা, সহকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্বশীলতা এবং কর্মনিষ্ঠা আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সবাই।
দৈনিক কল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আবু সাঈদ সাগরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
