ক্রীড়া প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১১ বছর পর যশোর অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০.৫৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম মানব হয়েছেন অভয়নগরের জাকারিয়া ও দ্রুততম মানবী হয়েছেন মারিয়া। মারিয়া ইয়াসমিন ১০০ মিটার দৌড়াতে সময় নিয়েছেন ১৪ সেকেন্ড। ২৫.৩০ সেকেন্ডে সময় নিয়ে মারিয়া ২০০ মিটার দৌড়েও সেরা হয়েছে।
এছাড়া ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দলগত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাঘারপাড়া উপজেলা। ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে অভয়নগর। এক পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় হয়েছে কেশবপুর উপজেলা।
সর্বশেষ ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা হয়েছিলো ক্লাবগুলোকে নিয়ে। এবারের আসর হয়েছে উপজেলাকে নিয়ে। ২২টি ইভেন্টে উপজেলার ১৩৭ জন অ্যাথলেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
এছাড়া ১০০ মিটার দৌড়ের পুরুষ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন সদরের মিরাজ, তৃতীয় হয়েছেন বাগারপাড়ার আব্দুল করিম। একই ইভেন্টে মহিলা বিভাগে অভয়নগরের নাইমা খাতুন দ্বিতীয় এবং বাঘারপাড়ার সামিরা আক্তার তৃতীয় হয়েছেন।
১০০ মিটারে দ্বিতীয় হওয়া মিরাজ ২০০ মিটারে হয়েছেন প্রথম। এই বিভাগে বাঘারপাড়ার বাদশা ও সুফিয়ান দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। মহিলা বিভাগে অভয়নগরের নাইমা খাতুন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছেন বাঘারপাড়ার সামিয়া আক্তার।
৪০০ মিটার ¯িপ্রন্টে পুরুষ বিভাগে মুজাহিদ শেখ প্রথম, বাঘারপাড়ার বাদশা মিয়া দ্বিতীয় ও চৌগাছার রাজিব হোসেন তৃতীয় হয়েছেন। মহিলা বিভাগে বাঘারপাড়ার শারমিন প্রথম একই উপজেলার চম্পা খাতুন তৃতীয় এবং দ্বিতীয় হয়েছেন সদরের তামান্না খাতুন।
৮০০ মিটার দৌড়ে পুরুষ বিভাগে অভয়নগরের মুজাহিদ শেখ প্রথম, একই উপজেলার সুমেল সরকার দ্বিতীয় এবং বাঘারপাড়ার ঐশ্বর্য্য প্রমাণ্য হয়েছেন তৃতীয়। মহিলা বিভাগে সদরের তামান্না আক্তার প্রথম, বাঘারপাড়ার শারমিন দ্বিতীয় ও ঝিকরগাছার নুরজাহান তৃতীয় হয়েছেন।
১৫০০ মিটার দৌড়ে অভয়নগরের মুজাহিদ শেখ প্রথম, একই উপজেলার মনিরুল ইসলাম দ্বিতীয় এবং বাঘারপাড়ার ঐশ্বর্য্য প্রমাণ্য তৃতীয় হয়েছেন।
বর্শা নিক্ষেপে পুরুষ বিভাগে বাঘারপাড়ার রনি বিশ্বাস প্রথম, সদরের আমির হামজা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছেন শার্শার জয়। মহিলা বিভাগে কেশবপুরের মুক্তা খাতুন প্রথম, সদরের রিতা বিশ্বাস দ্বিতীয় ও বাঘারপাড়ার আশা খাতুন তৃতীয় হয়েছেন।
দীর্ঘ লাফে পুরুষ বিভাগে বাঘারপাড়ার বায়জিদ হোসেন প্রথম, একই উপজেলার আবু সুফিয়ান তৃতীয় ও সদরের চন্দন কুমার দ্বিতীয় হয়েছেন। মহিলা বিভাগে কেশবপুরের তাহিয়া খাতুন প্রথম, তারই সতীর্থ আখি সুলতানা দ্বিতীয় এবং মণিরামপুরের সানজিদা রানী তৃতীয় হয়েছেন।
গোলক নিক্ষেপে পুরুষ বিভাগে বাঘারপাড়ার রনি বিশ্বাস প্রথম, সদরের তরিকুল ইসলাম দ্বিতীয় এবং বাঘারপাড়ার আবু হুরাইরা তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। মহিলা বিভাগে কেশবপুরের মুক্তা খাতুন প্রথম, বাঘারপাড়ার আশা খাতুন দ্বিতীয় এবং সদরের রিতা বিশ্বাস তৃতীয় হয়েছেন।
চাকতি নিক্ষেপে পুরুষ বিভাগে সদরের নাজমুল হুদা প্রথম, বাঘারপাড়ার রনি বিশ্বাস দ্বিতীয় ও চৌগাছার বিল্লাল হোসেন তৃতীয় হয়েছেন। মহিলা বিভাগে কেশবপুরের মুক্তা খাতুন প্রথম, অভয়নগেরর তানিয়া খাতুন দ্বিতীয় এবং একই উপজেলার আফরোজা আক্তার তৃতীয় হয়েছেন।
উচ্চ লাফে পুরুষ বিভাগে অভয়নগরের মনিরুল ইসলাম প্রথম, বাঘারপাড়ার বায়জিদ হোসেন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছে সদরের চন্দন কুমার বিশ্বাস। মহিলা বিভাগে কেশবপুরের তাহিয়া খাতুন, বাঘারপাড়ার মুনতাহিনা খাতুন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছেন সদরের তামান্না খাতুন।
এর আগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। অ্যাথলেটিকস পরিষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন অ্যাথলেটিকস পরিষদের সম্পাদক শ্রীনিবাস হালদার।