নিজস্ব প্রতিবেদক: আর ফিরবেন না কখনও। ক্যানভাসে রঙতুলির আঁচড়ে শোনাবেন না আর কোন গল্প। অনন্তলোকে যাত্রা করেছেন চিত্রশিল্পী সোহেল প্রাণন। গতকাল সোমবার অসুস্থ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নলিল্লাহি…রাজিউন)। এদিন সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফ্রিল্যান্স এই চিত্রশিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী সান্ত¡না শাহরীন নিনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার সহধর্মীনি নিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলার শিক্ষক ।
সোহেল রানা প্রাণন ১৯৭৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভ’ ধানমন্ডি থেকে ড্রইং এন্ড পেইন্টিংয়ে মাস্টার্স অফ ফাইন আর্ট ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে খুলনা আর্ট কলেজ থেকে ২০০৪ সালে একই বিষয়ে ব্যাচেলার ডিগ্রি নেন। ২০১৭ সালের দিকে তার দুটি কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। দেশে চিকিৎসা নিয়ে কোন উন্নতি না হওয়ায় তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়। সেখানে বায়োকেমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ খানিকটা সুস্থ হন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে নিয়মিতভাবে দরকারি ওষুধ আনতেও ব্যর্থ হন। এছাড়া আর্থিক সমস্যার কারণে চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এর মধ্যে গত রোববার মারাত্মক রকমের অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বেশকিছু অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সোহেল প্রাণন। ২০০৯ সালে ‘মুক্তচোখ’ শীর্ষক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় থার্ড প্রাইজ পান। এর আগে ২০০৬ সালে ১১তম বার্জার তরুণ পেইন্টার প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। সোহেল সলো বা একক চিত্রপ্রদর্শনীও করেছেন। ঢাকাতে ২০১৬ সালে শিল্পাঙ্গন আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘এক্সিসটেন্স’ শীর্ষক তার তৃতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী। একই বছর যশোরের প্রাচ্য সংঘে ‘রুট’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী হয়। ২০১৩ তে ঢাকা আর্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘রূপ শিল্পের দেশে’ শীর্ষক তার দ্বিতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী। এছাড়া শিল্পীর নিজ বাসভূম যশোর ২০০০-এ যশোর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী। এছাড়া শিল্পী সোহেল প্রাণন বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ ১৬টি যৌথ চিত্রপ্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে শিল্পী পালবাড়ীর গাজীর ঘাট রোডের নিজের বাড়িতে তৈরি করেছেন শিশুর জন্য চিত্রকলা শিক্ষালয়। বর্ণিকা আর্ট স্টুডিওর সাথে সম্পৃক্ত করেন শিশুদের ওই আর্টস্কুলটি।
সর্বশেষ
- যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘খোঁড়া কামরুল’ গ্রেপ্তার
- ঝুঁকিপূর্ণ পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, আতঙ্কে বর্মণপাড়ার ১৩ পরিবার
- “ভয় পাবেন না”— হামলার শিকার ছাত্রনেতা রাশেদের পরিবারকে আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী অমিতের
- যশোরে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী অনি আটক, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি
- ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান, হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় লাখো মুসল্লি
- জিমের পাশে প্রতিমন্ত্রী অমিত, ফিরতে চান সবুজ মাঠে
- যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে প্রথম জামায়াত সকাল সাড়ে ৭টায়
- আগামী কয়েক দিন হজে কী কী করবেন হাজিরা, দেখে নিন একনজরে