নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে বেসরকারি ইউনিক হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রুনা বেগম (২৯) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুর সাত্তারের মেয়ে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে ইউনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, রুনা গত রোববার কানের সমস্যা নিয়ে ইউনিক হাসাপাতালে ভর্তি হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আবু কায়সার অপারেশন করেন। অপারেশন করার পর ওই চিকিৎসক রোগী ফেলে ঢাকায় চলে যান। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অন্য চিকিৎসকের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আসছেন বলে জানান। গত দুইদিনে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হলেও চিকিৎসক রোগী দেখতে আসেননি। সোমবার গভীর রাত থেকে রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে নয়টার তিনি মারা যায়। স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডা. আবু কায়সারের শাস্তি দাবি করেন।
ইউনিক হাসাপাতালের আবাসিক ডা. শাফায়েত হোসেন জানান, রুগীর সমস্যা হওয়ার পরে অপারেশন করা চিকিৎসক আবু কায়সারকে জানানো হয়। তিনি যেভাবে বলেছেন আমি সেভাবে চিকিৎসা দিয়েছি, তিনি আরো জানান ডা. আবু কায়সার ঢাকা থেকে এসে অপারেশন করে আবার ঢাকায় ফিরে যায়। এ ঘটনায় সিভিল সার্জন অফিস ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মৃতের মামা আব্দুল কাদের।
ইউনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, মৃত্যু কেন হয়েছে চিকিৎসকই ভাল বলতে পারবেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই অমিত সাহা বলেন, টহল ডিউটির সময় জানতে পারি ইউনিক হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যর ঘটনায় রোগীর স্বজনরা হট্টগোল করছেন। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
প্রসঙ্গত, ইউনিক হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। আলোচিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নানা অনিয়মের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে অপচিকিৎসার অভিযোগ। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপতালের কতিপয় চিকিৎসক সরকারি এই হাসপাতাল থেকে হাত পা ভেঙে যাওয়া রোগীদের গোপনে ইউনিক হসপিটালে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দড়াটানার ভৈরব নদের ব্রিজের নিচ থেকে রোগীর একটি কাটা হাত উদ্ধার করে পুলিশ। ক্যান্সারে আক্রান্ত ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বর্মনদা গ্রামের নিরঞ্জন কুমারের ছেলে অনুপ কুমার (২০) নামে এক যুবক ইউনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অপারেশনের মাধ্যমে তার হাতটি কেটে ভৈরব নদে ফেলে দেয় সংশ্লিষ্টরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে হাতটি দেখে উৎসুক মানুষ সেখানে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ হাত উদ্ধার করে। এভাবে কোন রোগীর হাত কেটে প্রকাশ্যে ফেলে রাখা অপরাধ।
এদিকে, ছোট ছোট কক্ষে ছয় থেকে আটটি করে শয্যা রাখা হয়েছে। মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেও আরামদায়ক পরিবেশে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
