নিজস্ব প্রতিবেদক
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে চুরি করে আনা ট্রাক যশোর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে যশোর শহরের বকচর এলাকার কয়েকটি ভাঙড়ি দোকান থেকে চোরাই ট্রাকটির খণ্ড-খণ্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। এসময় চোর সিন্ডিকেটের দেলোয়ার হোসেনসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি রাতে ঈশ্বরদীর পৌর এলাকার আলহাজ মোড়ের ছানাউল্লাহর গ্যারেজের সামনে থেকে ওই ট্রাকটি চুরি হয়।
ট্রাক মালিক ঈশ^রদীর কলেজ রোড আকবরের মোড় এলাকার দুলাল মালিথার ছেলে তানভীর মালিথা জানিয়েছেন, তার নিজস্ব (ঢাকা-মেট্রো-ট-২৪-০১৪৮) নম্বর টাটা কোম্পানির একটি ট্রাক আছে। ঈশ^রদী উপজেলার মধ্যঅরনকোলা গ্রামের সামিউল ইসলাম নয়ন ওই ট্রাকটির চালক এবং একই এলাকার আলী আকবর ওই ট্রাকটির হেলপার হিসেবে পরিচালনা করতেন। বিভিন্ন এলাকায় ট্রিপ নেয়া শেষে খালি ট্রাকটি ১৯ জানুয়ারি দুপুরে এনে ঈশ^রদীর আলহাজ মোড়ে ছানাউল্লাহর গ্যারেজে রেখে চালক ও হেলপার বাড়িতে চলে যান। ২০ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে এসে দেখেন সেখানে ট্রাকটি নেই। বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর নিয়ে না পেয়ে ২২ জানুয়ারি ইশ^রদী থানায় অভিযোগ দেন ট্রাক মালিক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই থানার এসআই জালাল উদ্দিন এবং তার সহযোগী একই থানার এসআই ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার যশোরে আসেন। প্রথমেই বকচর এলাকার কাটা গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের হোতা দেলোয়ার হোসেনের দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় সেখান থেকে চোরাই ট্রাকটির কেবিন ও বডি উদ্ধারসহ তাকে আটক করা হয়। এরপরে একই এলাকার রাব্বির দোকানে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে ওই ট্রাকের ইঞ্জিনটি উদ্ধার করা হয়। পর্যায়ক্রমে এলাকার কয়েকটি দোকান থেকে ট্রাকের অন্য যন্ত্রাংশ উদ্ধার এবং ওই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত মোট সাতজনকে আটক করে পুলিশ।
বকচর এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই এলাকার সুলতান মাহমুদ পরান, মোর্তজা, মহাসিন, দেলোয়ার, রাব্বি, বাবুল ও ড্রাইভার নুর আজিমের নেতৃত্বে কাটা গাড়ি চোরাই সিন্ডিকেটের একটি সক্রিয় টিম রয়েছে। আর ওই টিমের লোকজন প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চুরি করে যশোরে আনে। এরপর গাড়ির সকল যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা ভাবে বিক্রি করা হয়। এছাড়া সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাজানো নামে স্ট্যাম্পে এফিডেভিট করে চোরাই গাড়ির মালিকানা দাবি করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঈশ্বরদী থানার এসআই জালাল উদ্দিন বলেছেন, গত ১৯ জানুয়ারি রাতে ট্রাকটি চুরি হয়। এই ঘটনার মামলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর শহরের বকচর এলাকার দেলোয়ার হোসেন, মহাসিন ও রাব্বির দোকান থেকে বডি, কেবিন ও ইঞ্জিন এবং এলাকার আরো কয়েকটি দোকান থেকে ট্রাকের খুচরা কিছু যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে দেলোয়ার হোসেনসহ সাতনজকে আটক করা হয়েছে।
