সাজেদ রহমান: ১৯৭১ সালে এখলাছ উদ্দীন ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তখন যশোর জেলা ছিল যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ এবং নড়াইল মহকুমা নিয়ে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন। ১৯৮৫ সালের ১১ জুন কালিয়া থেকে নড়াইল শহরে আসার পথে তিনি বারুইপাড়া ঘাটে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে পুত্র এহসানুল হক টুকুসহ নিহত হন।
তিনি মারা যাবার পর তাঁর ওই ডায়েরিটি পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকেই এখলাছ উদ্দিন যশোরে অবস্থান করছিলেন। প্রতিরোধ যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি লেখেন,…‘মার্চ থেকে ২রা এপ্রিল পর্যন্ত আমি যশোর শহরে অবস্থান করি এবং ২৫ শে মার্চ পর্যন্ত যশোর জেলা সংগ্রাম পরিষদের একজন সদস্য হিসাবে অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনা করি। যশোর জেলা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় পাঁচ জন সদস্য লইয়া। এই পাঁচ জন সদস্য হইলেন ১. মশিয়ুর রহমান, ২. সোহরাব হোসেন ৩. মোশাররফ হোসেন, ৪. রওশন আলী ৫) আমি স্বয়ং।
অসহযোগ আন্দলোনের শেষ পর্যায়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টের হাট বাজার, বৈদ্যুতিক আলো, পানি প্রভৃতি বন্ধ করে দেই। এই পর্যায়ে ২৫ শ মার্চ বেলা দশ ঘটিকার সময় কর্নেল তোফায়েলের ডাকে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে দাউদ পাবলিক স্কুলে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আমি এবং রওশন আলী, মোশাররফ হোসেন, ছাত্র নেতা খান টিপু সুলতান, রবিউল আলম, আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রধান জামাল উদ্দীন আহমদ এবং আরও কয়েকজন বৈঠকে উপস্থিত হই।
মিলিটারি অফিসার ছাড়াও তদানীন্তন ডেপুটি কমিশনার আবুল ফজল চৌধুরী এবং পুলিশ প্রধান এনামুল হক সাহেবও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠক কিছুক্ষণ চলার পর অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। কর্নেল তোফায়েল মশিয়ুর রহমান সাহেবকে বৈঠকে উপস্থিত করার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ প্রধানের চাতুরিপূর্ণ কর্মকুশলতায় উপস্থিত করাইতে ব্যর্থ হন।