এ্যান্টনি দাস অপু: দেশের মাটিতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে চায়না ইজিবাইকের তুলনায় ব্যাটারি চালিত অত্যাধুনিক ইজিবাইক তৈরি করেছেন যশোর শহরতলীর মুড়লী মোড় এলাকার হারুন রাজু। নিজ ওয়ার্কশপে এ অত্যাধুনিক ইজিবাইকটি তৈরি করেছেন তিনি। তিন চাকা বিশিষ্ট গাড়িটির নাম দিয়েছেন গ্রাম বাংলা ফোর-জি ইজিবাইক।
ইজিবাইকটি তৈরিতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করায় চায় না ইজিবাইকের তুলনায় দামও কম এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। গাড়ি শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশেই তৈরি করা যাবে চায়নার থেকেও অত্যাধুনিক ও বিদুৎ সাশ্রয়ী ইজিবাইক।
চায়না ইজিবাইকের চ্যাসিস ব্যবহার করে তাতে স্টিলের সিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বডি। এবং উন্নতমানের গ্লাস ব্যবহার করে সম্পূর্ণ গাড়িটিকে মোড়ানোর ফলে রোদ, বৃষ্টি বর্ষা এবং সড়কের ধুলাবালি থেকে যাত্রীরা সুরক্ষা পাবে। শুধু তাই নয় গাড়িটির ভেতরে চারজন এবং সামনে একজন ও চালকসহ মোট ছয়জন এ গাড়িটিতে চলাচল করতে পারবে। গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২শ’ ওয়াটের মোটর এবং ৫ টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি।
উদ্যোক্তা হারুন রাজু জানান, করোনার পর দেশের বেকারত্ব দূর করতে চায়না ইজিবাইকে ব্যয় বহুলতা বিবেচনা করে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইজিবাইক তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে নিজ কারখানায় কর্মচারীদের সহায়তায় মাত্র দুই মাসের চেষ্টায় তিনি পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম এই ফোর-জি ইজিবাইকটি তৈরি করেছেন।
ইজিবাইকটি এক বার ফুল চার্জ করতে ৪০-৫০ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হবে এবং এক চার্জে চলবে ১৪০-১৫০ কিলোমিটার। গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিলোমিটার। ইজিবাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ছয়টি চেয়ার, হাই কোয়ালিটি ডাম্পার, ডিজিটাল মিটার বক্স, অত্যাধুনিক মোটর কন্ট্রোলার এবং রুচিশীল ইন্টেরিয়র। এটি বৃহৎ পরিসরে বাজারজাত করতে পারলে দেশের বেকারত্ব দূর হবে, স্বল্প মূল্যে ইজিবাইকটি মানুষ কিনতে পারবে এবং নিরাপদ বাহন হিসেবে সড়কে ভূমিকা রাখবে। এজন্য আমি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
যশোর ওয়ার্কশপের কর্মচারী লিটন হোসেন বলেন, রাজু ভাইয়ের তৈরি ইজিবাইকটিতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বিদেশি যেকোন ইজিবাইকের তুলনায় এ ইজিবাইকটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং অত্যাধুনিক।
মুড়লী এলাকার শেখ রহিম বলেন, ইজিবাইকটি তৈরি হয়েছে আমাদের চোখের সামনে। এ ধরনের ইজিবাইক এর আগে কখনো বাংলাদেশের রাস্তায় দেখা যায়নি। এটি যেমন পরিবেশ বান্ধব, তেমনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ বাহন।
যশোর ওয়ার্কশপে এ ফোর-জি ইজিবাইকটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এবং বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা।