নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে যশোরে আয়োজিত হলো ‘রাইজ এন্ড থ্রাইভ উইথ হামিদুল হক’ শীর্ষক দিনব্যাপী আত্ম-উন্নয়ন কর্মশালা। ‘একটি দিন, নিজেকে দিন’ স্লোগানে আইডিয়া যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক মোট ৭০ জনকে নিয়ে আয়োজিত হয় দিনব্যাপী এই কর্মশালা। যশোরস্থ আর আর এফ সেন্টার’র কনফারেন্স রুমে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এই কর্মশালা হয়। ব্যক্তিজীবনে আত্মবিশ্বাস আনয়ন, আত্ম-উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা আনার জন্যই আয়োজিত হয়েছে এই আয়োজন।
রাইজ এন্ড থ্রাইভ উইথ হামিদুল হক শীর্ষক কর্মশালার প্রধান বক্তা হিসেবে সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট এবং ব্রেইন প্রোগ্রামার হামিদুল হক বলেন, ‘অগনিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক আত্ম উন্নয়নের জন্যে আমার উপর আস্থা রেখেছেন, রাখছেন এ আমার পরম পাওয়া। আমি মোটিভেশনাল স্পিকার নই, তা আমার কাজও নয়। অস্থায়ী কিছু কথামালা ক্ষণস্থায়ী উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে, জীবন বদলাতে পারেনা। কাজ করতে চাই প্রসেস নিয়ে, মাইন্ড প্রোগ্রামিং নিয়ে। মনের জট খুলে গেলে স্বকীয় সৃষ্টিশীলতা-ই উদ্ভাসিত হবে! এই পথের পথিক রাইজ এন্ড থ্রাইভ টিম ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ৭০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক নিয়ে দিনব্যাপি আমি শুধু জানাতে চাইলাম আমরা কেন সৃষ্টির সেরা জীব! সবই আমরা পারি, অভাব শুধু সঠিক কৌশল জানার; সেই প্রচেষ্টায় করলাম আমি।
রাইজ এন্ড থ্রাইভ টিম এর সমন্বয়ক মিতালি বালা বলেন, রাইজ এন্ড থ্রাইভ আইডিয়ার নিয়মিত আয়োজন। হামিদুল হক স্যার দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় সোশ্যাল সাইকোলজির শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন, ব্রেইন প্রোগ্রামিং তিনি দারুণ ভাবে করতে পারেন। রাইজ এন্ড থ্রাইভ মূলত আমাদের ব্রেইন প্রোগ্রামিং সেশন, যেখানে আমরা চেষ্টা করি সফলতার সঙ্গায় শুধু নয়, বরং সফলতার কৌশল জানাতে, শেখাতে। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কাজটিই আমরা করছি। এর ফিডব্যাক মারাত্মক আসে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মজীবী মানুষ যে/যারা শ্রোতা হয়ে উপস্থিত হন তাদের অভিব্যক্তি আমাদের স্বার্থকতার ধারক। আজও বহুজন আগ্রহীদের আমরা সুযোগ দিতে পারিনি। তারা পরবর্তী কর্মশালার জন্য অপেক্ষায় আছেন।
দিনব্যাপি কর্মশালায় সন্তানসহ উপস্থিত ছিলেন যশোর মহিলা কলেজের লেকচারার দীপ্তি মিত্র। তিনি বলেন, অদ্ভূতভাবে দেখলাম ছোটকাল থেকে আমাদের ছোট্ট ছোট্ট গলদ আমাদের সফলতার অন্তঃরায় হয়। আজ আমি যতোটা নিজের জন্য শিখলাম আরো বেশি শিখলাম আমার সন্তানের জন্য। তার জীবনে সেই ভুল করবো না, যে ভুল আমি নিজের জীবনে করেছিলাম।
সখিনা গার্লস হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাগতা অনুভূতি জানিয়ে বলে, হামিদুল স্যার আমার জীবনে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন করেন, যিনি আমাকে পথ দেখান, এক্সিডেন্টের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।
আহনাফ নামে সেশনে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বলে, আমি সত্যিই জীবনে আজ মনে হলো একটা দিন নিজেকে দিলাম। জানলাম কীভাবে মনোযোগ বৃদ্ধি করা যায়, কিভাবে পরীক্ষায় ভালো করতে হয়। সেশনে থাকা এক অভিভাবক বলেন, আজ আমি নতুন করে শিখলাম কীভাবে সন্তানের বন্ধু হবো। কীভাবে ও কে শেখাবো ভুল গুলো।
