আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে ভয়াবহ অপুষ্টির শিকার শিশুরা। হাসপাতালগুলো শিশুদের চিৎকার আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে। লস্কর গাহ শহরের প্রধান হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে কয়েক সেকেন্ড পর পরই একজন করে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে আসা হচ্ছে। তীব্র খাদ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে এসব শিশুকে। খাবারের অভাবে তাদের বাঁচিয়ে রাখাটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই নিরীহ মানুষগুলোকে দেখা কেউ নেই। সারাবিশ্বই যেন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। খাদ্যের অভাবে মরতে বসা এসব মানুষ বিশ্বের কোনো সহায়তাই পাচ্ছে না।
কয়েক ডজন ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না এবং সন্তানদের জন্য মায়েদের সাহায্যের আকুতিতে শিশুদের জরুরি সেবা দিতে এগিয়ে আসছেন নার্সরা। কিন্তু সেখানে এমন বহু শিশু রয়েছে। সবারই জরুরি সেবা প্রয়োজন। ফলে চিকিৎসকরাও ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন।
হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ। দেশের রাজধানী কাবুল থেকে ৪০০ মাইল (৬৪৪ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই শহর যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।
আড়াই বছর বয়সী সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন মারকাহ নামের এক নারী। বয়সের তুলনায় শিশুটি অনেক ছোট। তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল, হাত-পা ঠা-া হয়ে আসছিল। তাকে নিয়ে জরুরি বিভাগে ছুটছেন চিকিৎসকরা। সে মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে এবং যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছে। তাকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকরা দ্রুত কাজ করছেন।
সন্তানের এমন হাল দেখে কান্না থামাতে পারছেন না মারকাহ। তিনি বলেন, আমার সন্তান এভাবে কষ্ট পাচ্ছে আর আমি কিছুই করতে পারছি না। আমার সারাক্ষণ ভয় হচ্ছে যে, এই বুঝি আমার সন্তানের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।
ওই হাসপাতালে আনা প্রায় সব শিশুরই একই অবস্থা। হাসপাতালের স্টাফদের একটু অবসর নেওয়ারও সময় নেই। একজন শিশুকে রেখে তাদের অন্য শিশুকে দেখতে হচ্ছে।
ক্রিটিকাল কেয়ারে ভর্তি হওয়া প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন মারা যাচ্ছে। অতি সংক্রামক রোগ হামের বিস্তারের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে হাসপাতালের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই রোগের কারণে শিশুদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এই রোগ আরও ভয়াবহ বিপদ ডেকে এনেছে।