কল্যাণ ডেস্ক
মেক্সিকোর শীর্ষ মাদকসম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস ওরফে এল মেনচোকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, অর্থের লেনদেন বা মাদক পাচারের রুট অনুসরণ করে নয়—বরং তাঁর ‘রোমান্টিক পার্টনার’কে অনুসরণ করেই হালিস্কো অঙ্গরাজ্যের গভীর জঙ্গলে গোপন আস্তানার সন্ধান মেলে।
প্রেমিকার সূত্রে অবস্থান শনাক্ত
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গোয়েন্দারা ওই নারীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে অনুসরণ শুরু করেন। তিনি এক নারীকে হালিস্কোর তাপালপা শহরের পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে যান, যেখানে একটি কেবিনে এল মেনচো অবস্থান করছিলেন।
শনিবার নারীটি এলাকা ত্যাগ করলেও এল মেনচো তাঁর দেহরক্ষীদের নিয়ে সেখানে থেকে যান। এরপর বিশেষ বাহিনী উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিকল্পনা করে।
অতর্কিত অভিযান ও বন্দুকযুদ্ধ
রোববার ভোরে নিরাপত্তা বাহিনী তাপালপায় পৌঁছালে পরিস্থিতি দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হন এল মেনচো ও তাঁর দুই দেহরক্ষী। পরে তাঁদের হেলিকপ্টারে করে গুয়াদালাহারার একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
অভিযানে কার্টেলের অন্তত আট সদস্য নিহত হন। পরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও বহু হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
সিজেএনজি কার্টেলের উত্থান
এল মেনচো প্রায় ১৫ বছর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী সিনালোয়া কার্টেল থেকে আলাদা হয়ে গড়ে তোলেন কার্টেল হালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি)। সংগঠনটি মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মানব পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা
এল মেনচোর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে অন্তত ২০টিতে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও বিপণিবিতানে অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
কয়েক ঘণ্টার সহিংসতায় অন্তত ৬২ জন নিহত হন। পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সন্দেহভাজন কার্টেল সদস্যও রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে, গোলাগুলির মধ্যে পড়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আবেগঘন বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল রিকার্দো ত্রেভিয়া ত্রেহো অভিযানের বিবরণ দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমরা মেক্সিকোর শক্তি দেখছি।”
সোমবার বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানান তিনি।
মেয়রের প্রতিক্রিয়া
তাপালপার মেয়র আন্তোনিও মোরালেস দিয়াজ জানান, তিনি জানতেনই না যে কুখ্যাত মাদকসম্রাট তাঁর শহরে অবস্থান করছিলেন। রোববার সকাল সাতটার দিকে আকাশে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ঘোরাফেরা করতে দেখে তিনি রাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা কখনো চাইনি আমাদের শহরে এমন ঘটনা ঘটুক। কিন্তু এসব আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, এর প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে—তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
