সাতক্ষারী জেলা প্রতিনিধি
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। জীবিকার সন্ধানে কয়েক মাস আগে বিদেশে পাড়ি জমানো এ দুই তরুণের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে দুই পরিবারের পরিবেশ।
সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে লেবাননের নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম।
স্বজনরা জানান, শফিকুল ইসলাম মাত্র আড়াই মাস আগে সংসারের অভাব ঘোচাতে লেবাননে যান। বিদেশ যাওয়ার জন্য তিনি সমিতি থেকে ঋণ নেন, পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও ধার করেন। পরিবারের আশা ছিল, বিদেশে কাজ করে তিনি ঋণ শোধ করবেন এবং সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার জীবন থেমে গেল।
শফিকুল ইসলামের দুই ছোট মেয়ে রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই বাড়িতে চলছে হৃদয়বিদারক আহাজারি। স্ত্রী বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
একইভাবে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামেও চলছে শোকের মাতম। নিহত নাহিদুল ইসলামও পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে লেবাননে পাড়ি জমান। পরিবারের ঋণ পরিশোধ ও স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ, বাবা নীরবে কাঁদছেন প্রিয় সন্তানের জন্য।
নিহত দুই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে চান বলে জানান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে দুই তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে যাওয়া মানুষগুলো যেন আর যুদ্ধ ও সহিংসতার বলি না হন।
