নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে—এমন অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার যশোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন নবনিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাগুরার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হাসানের স্ত্রী হীরা খাতুন সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার ব্যবহৃত একটি গাড়ি যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটক করে অবৈধভাবে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ রাতে এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানান, থানার বিপরীতে রিচম্যান পোশাকের শোরুমের সামনে একটি রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর (CHR) হাইব্রিড গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালি থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে গাড়িটি জব্দ করে এবং আদালতকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, পরে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। এ সময় তাকে আদালতের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে আইনগত প্রক্রিয়ায় গাড়িটি জিম্মায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি আদালতের কোনো আদেশনামা বা গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থানায় জমা দেননি। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার স্বামী মো. আলী হাসান আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি স্বর্ণ পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী আলী আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও ‘গোল্ড শহীদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন চাপ সৃষ্টি করেন। এর প্রভাবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার স্বামী স্ট্রোক করে মারা যান বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
হীরা খাতুন আরও দাবি করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে একটি প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোলের সহযোগিতায় ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর গাড়িটি যশোর কোতোয়ালি থানায় জমা দেওয়া হলেও সেটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে জেলা পুলিশ বলছে, আদালতের নির্দেশনা ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি হস্তান্তরের সুযোগ নেই এবং পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
