আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর
মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে কৃষকের সম্প্রতি রোপণকৃত বোরো ধানের ক্ষেতসহ ২২০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের বুড়ুলি খালের পানির চাপে মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ কারণে ওই বিলে এবার বোরো আবাদ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
এলাকাবাসী জানায়, বোরো ধান আবাদ করার লক্ষে স্যালোমেশিন দিয়ে উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের অসংখ্য মাছের ঘেরের পানি সেচ দিয়ে বুড়ুলি খালে ফেলা হচ্ছিল। পলিতে ওই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঠিকভাবে পানি সরতে না পেরে উপচে খাল সংলগ্ন মিল্টনের মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষকের প্রায় ৪০ বিঘা রোপণকৃত বোরো ধানের ক্ষেতসহ প্রায় ২২০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। ওই বিলের অধিকাংশ কৃষক বোরো আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় একমাত্র বোরো আবাদ করা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে কৃষকেরা।
উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান বলেন, বুড়লি বিলে তার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ পানি নিষ্কাশিত না হলে এবার ধান আর হবে না।
একই গ্রামের মাহাবুর রহমান বলেন, ওই বিলে দেড় বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করা হয়েছিল। ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মাছের ঘেরের মালিক মিল্টন বলেন, বুড়ুলি খালে সেচকৃত পানির চাপে তার মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে বিলের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। এতে কৃষকের রোপণকৃত বোরো ধান ক্ষেতসহ ২২০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বিলের ক্যানেলে থাকা মাছ বের হয়ে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনজুর রহমান বলেন, ওই বিলে ২২০ বিঘা জমির ভেতর প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে কৃষকেরা বোরো আবাদ করেছিলেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে শুনেছি। ওই ঘেরের মালিকের সঙ্গে কথা বলে অতিদ্রুত তাকে পানি সেচের উদ্যোগ নিতে বলা হবে, যাতে কৃষকেরা বিলে বোরো আবাদ করতে পারেন।
