আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর)
পরিশ্রম আর দীর্ঘ কয়েক মাস অপেক্ষার পর যশোরের কেশবপুরে চলছে পাকা ধান কাটার কার্যক্রম। মাঠে মাঠে এখন কৃষাণ-কৃষাণীদের দারুণ ব্যস্ততা। চলছে ধান কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণের কাজ। এবার বোরোর ভালো ফলন হওয়ার পাশাপাশি দামও বেশি। কৃষাণ-কৃষাণীদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উপজেলায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। ধান কেটে আটি বেঁধে রাখছেন ক্ষেতের মাঝে। পড়ন্ত বিকেলে সেই আঁটি বাকে কিংবা ভ্যানগাড়িতে করে বাড়ি ফিরছেন কৃষক। বাড়িতে চলছে ধান মাড়াই কাজ। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে ব্যস্ত রয়েছে ধান সংগ্রহে। চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় আগে ভাগেই শুরু হয় বোরো আবাদ। খরচ একটু বেশি হলেও ডিসেম্বরের শেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে বোরোর ভালো ফলন হয়েছে। সমস্ত মাঠের ধান একসাথে পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত হয়।
কৃষক আব্দুল গনি জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। প্রথম দিকে ঘন কুয়াশায় বীজতলায় পাতো তৈরিতে সমস্যা হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হলেও পাকা ধান কেটে ক্ষেতে রাখার পর ঘন ঘন বৃষ্টিতে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ধান কাটা মাড়াইয়ে শ্রমিক সংকটে বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। উপজেলার একমাত্র শ্রমিক বাজার নতুন মূলগ্রাম বাজারে শ্রম বিক্রি করতে আসা কৃষি শ্রমিক রবিউল জানান, এবার বোরো ধান কাটায় শ্রমিক চাহিদা বেড়েছে। সব জায়গায় এক সাথে কাজ লাগায় প্রতিদিন একজন শ্রমিক ১ হাজারেরও বেশি টাকা আয় করেছেন।
ধান ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ৫ মে কেশবপুর মোকামে প্রতিমণ চিকন ধান ১১৮০ টাকা থেকে ১১৯০ টাকায় এবং মোটাধান প্রতিমণ ৯৮০ থেকে ৯৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ধান কাটার খরচ যোগাতে কৃষকরা প্রতিদিনই ধান বিক্রি করছেন।
উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, ধান ক্রয়ের এখনও উদ্বোধন করা না হলেও সরকার প্রতিমণ ধান ১২০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। এ উপজেলায় ১২১৮ মণ ধান সরকারিভাবে ক্রয় করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ১৪ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর, ব্রি-২৮ জাতের ধান ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর ও অবশিষ্ট জমিতে রড মিনিকেট, উফশীসহ অন্যান্য জাতের ধান আবাদ করেন কৃষকরা। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিক সংকটে কৃষকরা হার্ভেস্টার মেশিন ব্যবহার করতে পারে। এতে একসাথে ধান কাটা, ঝাড়া ও বস্তা বন্দি করা যায়। গত ২/৩ দিন ধরে উপজেলার দেউলী মাঠে হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা প্রদর্শিত হচ্ছে।
