শাহারুল ইসলাম ফারদিন
আগামী মাসে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। কোরবানির বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের খামারিরা। এদিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, বৈশ্বিক কারণে গো-খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এরপরও খামারিরা ঈদে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন তারা।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছর যশোরে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত আছে। এবারের ঈদে জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ৯৬ হাজার ৭১৮টি। চাহিদার তুলনায় ৩০ হাজার ১৩৩টি পশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে গরু রয়েছে ৩৯ হাজার ৬৭৮টি, ছাগল ৮৬ হাজার ৩৬৫টি ও ভেড়া রয়েছে ৮০৮টি। মোট পশু প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫১টি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে যশোর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে বেশ এগিয়ে। বিশেষ করে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ায় খামার স্থাপনের মাধ্যমে এ জেলায় গরু পালন বেড়েছে। ফলে সারা বছরের চাহিদা মেটাচ্ছে এসব খামারে হৃষ্টপুষ্ট করা গরু। তবে কোরবানির বাজার ধরতে খামারিদের বাড়তি উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। এ বছর জেলার ৮টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার ১৩৫টি ছোট-বড় খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হচ্ছে লক্ষাধিক গরু ও ছাগল। পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে ব্যক্তি পর্যায়েও হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে অনেক গরু। দিন-রাতের অবিরাম পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করা গরু-ছাগল এখন বিক্রির জন্য প্রস্তুত। তবে খামারিদের অভিযোগ, ঊর্ধ্বগতির বাজারে প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্য দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণে খরচ বেশি হয়েছে। ফলে সন্তোষজনক দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত তারা।
সদরের চুড়ামনকাটি বেলের মাঠ গ্রামের নজরুল ইসলামের বাড়িতে সরেজমিন দেখা গেছে, পাকা ফ্লোর ও ফ্যান। খাবারের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের দেশি খাদ্য। সার্বক্ষণিক চলছে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার অন্তত শতাধিক খামারে এভাবেই আদর-যতেœ লালিত হচ্ছে গরু। ২৪ ঘণ্টা এমন পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব খামারে বেড়ে ওঠা গরুগুলো হয়ে উঠছে হৃষ্টপুষ্ট ও সুন্দর। তিনি বলেন বলেন, ২০১২ সালে দুটি দেশি প্রজাতির ষাঁড় কিনে মোটাতাজা শুরু করেন। এখন বর্তমানে তার খামারে ৯টি ষাঁড় রয়েছে। বাড়িতেই ষাঁড়গুলো পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাহায্য সহযোগিতায় লালন পালন করে আসছেন। কোরবানির ঈদে গরুগুলো বিক্রি করবেন। কোনো অসাধু পন্থা অবলম্বন না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে খড়, খৈল, ভূষি ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে গরুগুলোকে মোটাতাজা করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা খরচ একটু বেশি হলেও, পশু কোনো রকমের ঝুঁকির মধ্যে থাকে না।
আরেক খামারি বাঘারপাড়ার জামদিয়া গ্রামের শামীম রেজা বলেন, আমার ৫১টি গরু আছে, যার প্রায় সবকয়টি বিক্রি উপযোগী। এবার খরচ অনেক বেশি। দাম পাওয়া নিয়ে একটু চিন্তিত। তারপরও আশা করি, এবার কোরবানির পশুর হাটে ভালো দাম পাবো। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে গরুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, ভিটামিন ও ভ্যাকসিন দিয়ে থাকেন। যা পশুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বাঘারপাড়ার ভাঙ্গুড়া গ্রামের আরেকজন খামারি টিপু সুলতান বলেন, আমরা সাধারণত কৃষিলোন বা এনজিও থেকে লোন নিয়ে পশুর খাবার ও গরু লালন পালন করি। প্রাণিসম্পদ অফিস খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, ভিটামিন ও ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, আমরাও সার্বক্ষণিক এলাকার খামারিদের খোঁজ খবর রাখছি। গরু মোটা তাজাকরণের ক্ষেত্রে কোনো রকম ক্ষতিকারক ওষুধ কিংবা ইনজেকশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি খামারিদের। এছাড়া গরু মোটাতাজাকরণের বিষয়ে খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মাঠে পর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক কারণে গো-খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এরপরও খামারিরা ঈদে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি। এছাড়া কোরবানির পশুরহাটে প্রাণিসম্পদের ভ্যাটারনারি মেডিকেল টিম থাকবে। কোনো পশু অসুস্থ হয়ে গেলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া যায়, বা কোনো অসুস্থ পশু যেন কেউ হাটে উঠাতে না পারে। যশোর জেলায় মোট প্রাণিসম্পদের পশু চিকিৎসকের সংখ্যা ১৫ জন।
