নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বাজারে এখন চালের চেয়ে আলু ও পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে মোটা ও মাঝারি ধরনের চালের দামকে ছাড়িয়ে গেছে নতুন-পুরোনো আলুর দাম। ক্ষেত্রবিশেষে সরু চালের দামকেও অতিক্রম করেছে আলু ও পেঁয়াজ।
অথচ মৌসুম শুরু হওয়ার পর বাজারে নতুন আলু এসেছে। কিছু পুরোনো আলুও এখনো বাজারে আছে। তবু আলুর দাম কমছে না। একই সঙ্গে শীতের মৌসুমের অন্যান্য সবজির দামও এখনো চড়া।
শুক্রবার বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি নতুন ও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় ধরনের আলুর দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে নতুন আলু আসে এবং এরপর এর দাম কমতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত বছরের এই সময়ে আলুর দাম ছিল প্রতি কেজি ১৬ থেকে ২২ টাকা।
বড় বাজারের মুদি দোকানী আশিষ দে জানান, ঊর্ধ্বদামে অপরিবর্তিত আছে চালের দাম। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়। ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা কেজি বিক্রি হয় বিআর-২৮ চাল। প্রতি কেজি বিআর ৪৯-চাল বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা। ৪৮ টাকা থেকে ৫২ টাকা কেজি বিক্রি হয় বিআর-১০ চাল বিক্রি। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয় ৫৪ টাকা থেকে ৫৬ টাকা। ৬৬ টাকা থেকে ৬৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় বাংলামতি চাল।
আলুর মতো পেঁয়াজের বাজার এখনো চড়া। ক্রেতাকে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। পুরোনো দেশি পেঁয়াজের দাম পড়ছে প্রতি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা।
প্রতি কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে দেশি রসুন। প্রতি কেজি আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি। ৬০-৭০ টাকা কেজি নতুন-পুরাতন আলু। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা শংকর কুমার জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না। প্রতি কেজি ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয় শিম, প্রতি কেজি পেঁয়াজের কালি বিক্রি ৩০ টাকা কেজি, ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি টমেটো, প্রতি কেজি ওল কপি ৩০ টাকা, ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা বাধা কপি, প্রতি কেজি পালংশাক ৩০ টাকা, ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে মেটে আলু, প্রতি কেজি বেগুন ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, ১০০ টাকা কেজি উচ্ছে, প্রতি কেজি বরবটি ১০০ টাকা, ৪০ টাকা কেজি পটল, প্রতি কেজি কুমড়া ৪০ টাকা, ৩০ টাকা কলা, প্রতি কেজি কচুরলতি ৫০ টাকা, ২০ টাকা কেজি মুলা, প্রতি কিজে ভেন্ডি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ঝিঙ্গে ও কুশি।
বাজারে সরকার নির্ধারিত দাম পাওয়া যাচ্ছে ভোজ্য তেল। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ১৭০ টাকা। আবার ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয় খোলা সয়াবিন তেল। প্রতি কেজি সুপার পাম তেল বিক্রি ১৪০ টাকা। ১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় পাম তেল।
বাজারে ডালের দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে আমদানিকৃত মুসুর ডাল। প্রতি কেজি ছোলার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বুটের ডাল। প্রতি কেজি মুগের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১শ টাকা থেকে ১৩০ টাকা।
