নিজস্ব প্রতিবেদক: চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে তরুণ চিত্রশিল্পী সোহেল প্রাণনের নিথর দেহখানা। উদীয়মান চিত্রকরের প্রাণহীন মুখখানি শেষ বারের মত দেখতে মঙ্গলবার অনেকেই চারুপীঠে ছুটে যান।
এদিন সমাহিত করার আগে প্রাণনের মরদেহ যশোর পৌরপার্কে চারুপীঠ আর্ট ইনস্টিটিউটে আনা হয়। কবি, শিল্পী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসময় প্রয়াতকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।
নিপুণ হাতে এতদিন যিনি ক্যানভাসে প্রাণ ছড়াতেন; সেই তিনি নিস্প্রাণ দেহে আসেন প্রিয় সংগঠন চারুপীঠ চত্বরে, কাফনের সাদা কাপড়ে জড়িয়ে। বেলা তখন ১১টা। পৌর উদ্যানের চারুপীঠ আঙিনায় অনন্ত পথের যাত্রী সোহেল প্রাণনের মরদেহ রাখা হয়। খাটিয়ায় শায়িত শিল্পীর প্রাণহীন দেহখানা কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা ছিলো। তার ঠিক পেছনেই প্রাণনের জীবিতকালের তারুণ্যদীপ্ত ছবি জ¦লজ¦ল করছিলো।
গতকাল চারুপীঠ আঙিনায় বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সোহেল প্রাণনের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অশ্রুসজল নয়নে প্রয়াতের অন্তিম যাত্রার জন্য বিদায় জানান। এসময় তার বিদেহী আত্মার প্রতি সন্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। প্রাণনের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় যশোর ইনস্টিটিউট, উদীচী, নাট্যসংগঠন বিবর্তন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সুরধুনী, চারুপীঠ, তির্যক, চাঁদেরহাট যশোর, পুনশ্চ, শেকড়সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রাণনের মরদেহ নুতন খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নেয়া হয়। দুপুরে যোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কররস্থানে দাফন করা হয়।
গত সোমবার অসুস্থ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সোহেল প্রাণন। ওইদিন সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফ্রিল্যান্স এই চিত্রশিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী সান্ত¡না শাহরীন নিনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার সহধর্মীনি নিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলার শিক্ষক।
সোহেল রানা প্রাণন ১৯৭৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভ ধানমন্ডি থেকে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিংয়ে মাস্টার্স অব ফাইন আর্ট ডিগ্রি অর্জন করেন। খুলনা আর্ট কলেজ থেকে এর আগে ২০০৪ সালে একই বিষয়ে ব্যাচেলার ডিগ্রি নেন। ২০১৭ সালের দিকে তার দুটি কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। দেশে চিকিৎসা নিয়ে কোন উন্নতি না হওয়ায় তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়। সেখানে বায়োকেমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ খানিকটা সুস্থ হন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে নিয়মিতভাবে দরকারি ওষুধ আনতেও ব্যর্থ হন। এছাড়া আর্থিক সমস্যার কারণে চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। ফলে ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে মারা গেলেন তিনি।