চিকিৎসক এ্যামিলিসহ তিনজনের নামে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুল চিকিৎসা দিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে যশোরের গাইনি চিকিৎসকসহ তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। বাঘারপাড়ার পাঠানপাইকপাড়া গ্রামের শাওন মাহমুদ মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছেন। বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিলুফার ইয়াসমিন এ্যামিলি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমাজিং বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ ও কনসালটেন্ট (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি) একেএম আব্দুল আওয়াল।
শাওন মাহমুদ মামলায় উল্লেখ করেছেন, বাঘারপাড়া উপজেলার খলসি গ্রামের রবিউল ইসলামের সাথে তার বোন নাজমুন নাহার সুমিকে ২০০৭ সালে বিয়ে দেয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সন্তান না হওয়ায় ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের অসিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার নিলুফার ইয়াসমিন এ্যামিলির কাছে আসেন। চিকিৎসায় তার বোনের গর্ভে সন্তান আসে। ৫ সপ্তাহ ৬দিন ওই সন্তানের বয়স হয়েছে বলে জানানো হয়। হঠাৎ করে গত ২৯ মার্চ রোগীর ব্লিডিং হলে ডাক্তার এ্যামিলির কাছে এসে চিকিৎসা নেয়। এরপর ৩১ মার্চ আবারো ব্লেডিং দেখা দিলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় সুমিকে। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ডাক্তার আবু সাইদ এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য ডাক্তার আব্দুল আওয়ালের কাছে পাঠান গাইনি ডা. এ্যামিলি। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডা. এমিলি বলেন সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর সুমিকে অসিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করে চারদিন ধরে পুরোপুরি গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চিকিৎসা প্রদান করেন এ্যামিলি। এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমি। স্বজনরা তখন সুমিকে কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার গাইনি কনসালটেন্ট ডাক্তার নারগিস আক্তার দেখে ডা. হাসিনা আক্তার খাতুন ও কানিজ ফাতেমার মাধ্যমে ফের আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়। জানতে পারেন সুমির গর্ভের সন্তান এখনো জীবিত এবং সুস্থ আছে। ফলে অসিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাক্তার এমিলি, আবু সাইদ ও আব্দুল আওয়াল ওই সন্তানটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভুল চিকিৎসা দিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে আসছিলেন।
তবে অভিযোগে বিষয়ে অস্বীকার করে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিলুফার ইয়াসমিন এ্যামিলি দৈনিক কল্যাণকে বলেন, আমার চিকিৎসায় ১৫ বছর পরে সুমির গর্ভে সন্তান আসে। সন্তান আসার পর তিনি আমার কাছে আর আসেননি। তার সুনাম ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ করে মামলা করা হয়েছে।