নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের পুরাতন খাতা আত্মসাতের অভিযোগে ট্রাক চালক ও হেলপারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল যশোর শহরের ঢাকা রোড বারান্দি মোল্যাপাড়ার মেসার্স ভাই ভাই পেপার স্টোরের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল আলিম এই মামলাটি করেছেন। বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া এই ঘটনায় বাদী এবং আসামিদের মধ্যে পূর্বে কোন মামলা আছে কিনা তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, যশোর সদরের সতীঘাটা কামালপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে ও যশোর-১১-২২১৬ নম্বর ট্রাক চালক শামীম হোসেন, রাজারহাটের বাংলাদেশ ট্রান্সপোর্ট এন্ড রেন্টাল করপোরেশনের ম্যানেজার এবং মণিরামপুরের টুনিয়াপাড়া গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে রাকিব হোসেন, সদর উপজেলার জলকর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ফিরোজ আহম্মদ এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঘাইটাল গ্রামের নুর আহম্মদের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা রোড বারান্দীপাড়ায় বাদীর মেসার্স ভাই ভাই পেপার স্টোর নামে আব্দুল আলিমের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন ধরণের পুরাতন কাগজ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। এরই মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ১৪ হাজার কেজি পুরাতন খাতা চট্টগ্রামের হক্কানী পেপার মিলে বিক্রির জন্য রাজারহাটের বাংলাদেশ ট্রান্সপোর্ট এন্ড রেন্টাল করপোরেশনের ম্যানেজার রাকিব হোসেনের মাধ্যমে যশোর-১১-২২১৬ নম্বর ট্রাকটি ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া করেন। ওই ট্রাকে খাতা লোড করে চালক শামীম হোসেন ও হেলপার ফিরোজ আহম্মদ গত ১৪ ফ্রেবুয়ারি যশোর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। কিন্তু ট্রাকটি গন্তব্যে না গিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঘাইটাল গ্রামের নুর আহম্মদের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের টঙ্গীর ধামরাইলে বিক্রি করেন। নির্ধারিত স্থানে না পৌঁছানোর কারণে আব্দুল আলিম ট্রাকের খোঁজখবর নেন। চালকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পেয়ে ট্রাকটিতে থাকা জিপিএসের মাধ্যমে রাজারহাটে মালিকের অধীনে রয়েছে বলে জানতে পারেন। এরপরে হেলপারের কাছে চালকের সন্ধান না পেয়ে আরো বেশি করে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন ওই খাতাগুলি টঙ্গীর ধামরাইলে বিক্রি করেছে। এই ঘটনায় আব্দুল আলিম ৩১ মার্চ কোতোয়ালি থানায় ওই চার আসামির বিরুদ্ধে মামলা করতে যান। কিন্তু পুলিশ বাদীকে ভুল বুঝিয়ে অন্যদের নামে মামলা না নিয়ে শুধুমাত্র চালক শামীমের বিরুদ্ধে মামলাটি নিয়েছেন। পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো আদালতে মামলা করা হয়েছে । বিচারক এই সংক্রান্তে বাদী বিবাদীদের মধ্যে আর কোন মামলা আছে কিনা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
