নিজস্ব প্রতিবেদক
রাত গভীর হতেই অভিযান। লোকচক্ষুর আড়ালে চলছিল নজরদারি। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাত ১১টার পর যশোর শহরের রেলগেট–রায়পাড়া এলাকা থেকে শার্শা উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আটকের পরপরই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। চলছে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ। ডিবির অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেনাপোলের ঘিবা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আকুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আলোচিত নাম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ছিলেন প্রভাবশালী। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তার চলাফেরা ছিল প্রকাশ্য। বেনাপোলের সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল। তবে অপরাধের অন্ধকার অধ্যায় সামনে আসে ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
সেদিন বাংলাদেশ পুলিশ–এর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের তিনটি দল একযোগে মিরপুর, দারুস সালাম ও গাবতলী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আকুল হোসেনসহ তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়—৮টি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৮টি গুলি, একটি প্রাইভেটকার।
আটক অন্যরা ছিলেন ইলিয়াস হোসেন, আব্দুল আজিম, ফারুক হোসেন ও ফজলুর রহমান। সবাই বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার বাসিন্দা। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তখন অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
দীর্ঘ সময় পর আবারও আকুল হোসেনের গ্রেপ্তার সেই পুরনো অস্ত্র মামলার ছায়া নতুন করে সামনে এনেছে।
প্রভাবশালী রাজনীতি থেকে অপরাধের জগৎ—এই গল্পের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় মানুষ।
