নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলাতে তারাবির নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আল-আমিন (৩৫) নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গাতিপাড়া মোড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আল-আমিন উপজেলার বারোপোতা গ্রামের বাসিন্দা এবং নাভারণ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ গ্রামে একটি চিকিৎসা চেম্বার পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ও সেবাপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
যেভাবে হামলার ঘটনা
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও চেম্বার বন্ধ করে পাশের মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করেন আল-আমিন। নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
পথিমধ্যে গাতিপাড়া হাইস্কুলের সামনে ‘তারের বেড়া’ নামে পরিচিত স্থানে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আকস্মিক হামলায় আল-আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হন স্থানীয়রা।
এলাকায় আতঙ্ক
ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজনরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হামলা হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-আলম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। পূর্ব বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শান্ত স্বভাবের ও পরিচিত এক গ্রাম্য চিকিৎসকের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়রা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
