নিজস্ব প্রতিবেদক: চলে গেলেন যশোরের সাংবাদিকতার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র দৈনিক স্ফুলিঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক মিয়া আব্দুস সাত্তার (৮৪)। শুক্রবার ভোরে যশোর শহরতলীর শেখহাটিস্থ বাসাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না…রাজিউন)।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন। শুক্রবার জুম্মাবাদ উপশহর মারকার্স মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে ঘোপ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে প্রেস ক্লাব যশোর প্রাঙ্গনে এই সম্পাদককে ফুলের শ্রদ্ধা জানায় সাংবাদিকদের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো।
শ্রদ্ধা জানায় প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখা, দৈনিক কল্যাণ, দৈনিক গ্রামের কাগজ, দৈনিক স্পন্দন, দৈনিক সমাজের কথা, দৈনিক সত্যপাঠ প্রমুখ।
যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা জানান, যশোরের প্রথম সংবাদপত্র স্ফুলিঙ্গের সম্পাদক মিয়া আব্দুস সাত্তার নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মিয়া আব্দুস সাত্তারের সম্পাদনায় শত্রুমুক্ত যশোর থেকে ১৯৭১ এর ৯ ডিসেম্বর প্রথম প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘স্ফুলিঙ্গ’। যশোর শত্রু মুক্ত হওয়ার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশিত সাপ্তাহিক স্ফুলিঙ্গ ১৯৭৬ সালে দৈনিকে রূপ নেয়। তিনি ১৯৩৮ সালের ৪ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলাধীন সোনাতুন্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বলে পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন।
তিনি যশোরের স্থানীয় সংবাদপত্র জগতের পথপ্রদর্শক। যশোরসহ এতদাঞ্চলের সাংবাদিক তৈরিতে তার অবদান অবিস্মরণীয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত অনেক সাংবাদিকের হাতেখড়ি দৈনিক স্ফুলিঙ্গ থেকে। তার নেতৃত্বে পত্রিকাটি যশোরসহ এতদাঞ্চলের সাংবাদিকতায় এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। যশোরের সংবাদপত্রের আজকের জয়যাত্রায় দৈনিক স্ফুলিঙ্গ এবং মিয়া আব্দুস সাত্তারের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তার মৃত্যু গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব যশোর। প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সরোয়ার হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক জানিয়েছেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা ও সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন। শোক জানিয়েছেন জেলা জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা অশোক রায়।
এদিকে, তার মৃত্যুতে প্রেসক্লাব যশোর তিনদিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে ক্লাবে কালোপতাকা উত্তোলন ও সদস্যরা কালোব্যাজ ধারণ করেন। দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ শেষবারের মতো প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে নিয়ে আসা হয়। এ সময় প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। ২৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্যে দিয়ে শোক কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।