নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবাহের বিঘœ ঘটায় গত সপ্তাহজুড়ে যশোরের বাজারে সব ধরনের শাক-সবজির দাম ছিল অস্বাভাবিক। কোনো কোনো সবজি দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে আন্দোলন স্থগিত থাকা এবং গত বুধবার থেকে কারফিউ শিথিল ও পণ্যবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে কমতে শুরু করেছে শাক-সবজির দাম।
গত শুক্র, শনি, রবি ও সোমবার বাজারে কাঁচামরিচ, ডিমসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সবজির দাম ছিল অস্বাভাবিক। তবে সপ্তাহ শেষে গতকাল শুক্রবার বাজারে আসা বেশিরভাগ শাক-সবজির দাম কমেছে। এ ছাড়া ফার্মের ডিম, ব্রয়লার মুরগি, মাছ ও মাংসের দামও কমেছে।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) যশোর শহরের এইচএমএম রোডের বড়বাজার, রেল স্টেশন বাজার ও সাবেক চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে কিছু কিছু জায়গায় কাঁচামরিচ ৩০০ থকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফার্মের মুরগির লাল ডিম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া টমেটো, বেগুন, শসা, পটল, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলা, কাকরোলসহ প্রায় সব ধরনের শাক-সবজির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
শুক্রবার ষষ্ঠীতলার সবেজান বিবি বলেন, গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা কেজি ছিল, আজ তা ১০০ টাকা করে কিনেছি। ডিমের দামও কিছুটা কমেছে। বিক্রিতারা ঝিঙ্গা, পটল, লাউসহসহ কয়েকটি সবজির দাম গত সপ্তাহের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি করছে বলে জানান তিনি।
এদিন রেল স্টেশনের সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে যে সবজি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি আজ তা ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে ৬০ টাকার নিচে কোন সবজি ছিল না। আর এ সপ্তাহে কাচাঁমরিচ, বেগুন, শসা, পটল, ঝিঙ্গা, লাউসহ সব ধরনের সবজির দাম কমেছে।
বড়বাজারের কাঁচাবাজারে কথা হয় গৃহিনী রাহেলা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ কিনেছি ৩২০ টাকা কেজি দরে। আর আজ তা কমে হয়েছে ১১০ টাকা। ডিম কিনেছিলাম ১৮০ টাকা ডজন, আজ কিনেছি ১৫৫ টাকা ডজন। কোটা আন্দোলনের কারণে বাজারে এসে যাচাই-বাছাই করেও কিনতে পারিনি। তখন সব জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি ছিল। আজ সবজির দাম মোটামুটি পর্যায়ে আছে।
এদিন করলা ৬০-৪০ টাকা, উস্তা ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৬৫, লম্বা বেগুন ৫৫ টাকা, কাঁকরোল ৪০, শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ৩০-৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ টাকা, বরবটি-৪০-৪০ টাকা, পটল ২৫-২০ টাকা, মিস্টি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, আলু ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু (মাঝারি আকারের) ১২-১৫ টাকা হালি বিক্রি হতে দেখা যায়। জালি কুমড়া (প্রতি পিস) ৩০-৪০ টাকা, পাতি লাউ (মাঝারি আকারের প্রতি পিস) ৩০-৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি আঁটি লাউশাক ও পুঁইশাক ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিন চুয়াডাঙ্গ বাসস্ট্যান্ড বাজারে শাক-সবজি, মনিহারি মালামাল বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, কোটা আন্দোলনের কারণে গত সপ্তাহে ডিমসহ সব ধরনের শাক-সবজি দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। আন্দোলন না থাকায় এ সপ্তাহে দাম স্বাভাবিকের পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে ডিমের দাম এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, মূলত কোটা আন্দোলনের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেড়েছিল। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সবজির দাম আগের পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুক্রবার বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১২০-১৩০ টাকা, রসুন ২৪০-২৫০ টাকা, আদা ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিন বাজারে এক কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ২৪০-২৮০ টাকা কেজি, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি, সিং ৪৪০-৫৫০ টাকা, গুলশা ৭৫০-৮০০ টাকা, টেংরা ৫৫০-৬০০ টাকা, চিংড়ি মাঝারি ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে হতে দেখা যায়। মাঝারি সাইজের তেলাপিয়া, পাঙাস, সিলভার কার্প ও চাষের কই কেজিপ্রতি ১৮০-২২০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার ফার্মের লাল ডিম ১৫৫-১৬০ টাকা ডজন এবং ফার্মের মুরগির সাদা ডিম ১৪৫-১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এদিন হাঁসের ডিম ৮০ টাকা হালি এবং কোয়েল পাখির ডিম ৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
ব্রয়লার মুরগির ১৯০-২০০ টাকা, সোনালিকা ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিন বাজারে গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতোই কেজি প্রতি ৬৮০-৭৫০ টাকা এবং খাসি ১০৫০-১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
