এম এ রাজা
যশোরের বর্তমান তিন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এরমধ্যে শার্শার বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু পরপর দুইবার, কেশবপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম ও মণিরামপুরের নাজমা খানম প্রথমবারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। নাজমা খানম মনোনয়নপত্র কিনলেও নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন। আর সিরাজুল হক মঞ্জু ও কাজী রফিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র ক্রয় করেননি।
নির্বাচনে অংশ না নেওয়া তিন চেয়ারম্যানই স্থানীয় রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির অভিযোগ নেই তাদের বিরুদ্ধে। তবুও তারা নির্বাচন করছেন না। এ নিয়ে তিন চেয়ারম্যান কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাদের কাছের লোকজন বলছেন এবার দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে না। দলীয় প্রতীক পেলে ভোটে জয় পাওয়া সহজ। এছাড়া স্থানীয় এমপির গ্রিন সিগন্যালও পাননি তারা। তাই ভোটে হারার ঝুঁকি নিতে চাননি তারা।
সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু : টানা দুইবারের শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু। পাকিস্তান আমল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে এবারের নির্বাচন করছেন না তিনি। এ নিয়ে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তার কাছের বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে তাকে সমর্থন দেয়া হয়নি। এবার সমর্থন দেয়া হয়েছে র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ ধরা পড়া আলোচিত যুবলীগ নেতা সোহারাব হোসেনকে। সিরাজুল হক মঞ্জুর এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এরআগে তিনি (মঞ্জু) গণমাধ্যমে এবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
সূত্রের দাবি, দুই ভাগে বিভক্ত শার্শা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। বর্ষিয়ান নেতা সিরাজুল হক মঞ্জু স্থানীয় সংসদ সদস্যের বলয়ে রাজনীতি করেন। তাকে সমর্থন না দেয়ায় শেষ জীবনে এসে সিরাজুল হক মঞ্জু নিজ বলায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়াতে চাননি। এজন্য নির্বাচন থেকে দূরে সরে গেছেন। ভোট না করার কারণ ইঙ্গিত করে গেছেন। তার সেই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কাজী রফিকুল ইসলাম : ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এইচএম আমীর হোসেনকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাজী রফিকুল ইসলাম। ৮০ এর উপরে বয়স হয়ে যাওয়া কাজী রফিকুল ইসলাম এবার নির্বাচন করছেন না। মূলত অসুস্থতার জন্য তিনি নির্বাচন করছেন না বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। তবে এবারের নির্বাচনে তার ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।
নাজমা খানম : মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম নারী চেয়ারম্যান নাজমা খানম। এর আগে টানা দুইবার পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মণিরামপুরের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের অনুসারী হিসেবে নৌকা পেয়েছিলেন বলে এলাকায় প্রচলন ছিল। তবে নির্বাচনের দুই-তিন বছর পরই স্বপন ভট্টাচার্য্যরে সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের হাতে তিনি লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। তারপরও মাঠ ছাড়েননি। নিজে একটা বলয় তৈরি করেছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বপন ভট্টাচার্য্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে তিনি (নাজমা) নৌকা প্রতীকের নির্র্বাচন করেন। স্বপন-নাজমাকে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় দেখা যায়। কিন্তু নাজমার দুর্দিনের অনেক সাথী এতে মনক্ষুণœ হন। ভোটে স্বপন ভট্টাচার্য্য হেরে গেলে তাদের উভয়ের অবস্থা নড়বড়ে হন। আবার উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়ায় ভোট করে ‘রিস্ক’ নিতে চাননি বলে তার কাছের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।
মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ২৩ এপ্রিল নাজমা খানমকে ধন্যবাদ দিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ধন্যবাদ মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ এর প্রথম নারী চেয়ারম্যান নাজমা আপাকে, আপনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্য। সব সময় সবার জন্য নির্বাচনের পরিবেশ থাকেনা, তাই আপনি সরে দাঁড়িয়েছেন। আগামীতে আপনাকে রাজনীতির ভালো স্থানে পৌঁছে দিবে ইনশাআল্লাহ।
শহিদুল ইসলামের এ স্ট্যাটাসে আনোয়ার পারভেজ অনুজ নামে একজন মন্তব্য করেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে অনেকেই জানতে চাইতো কিন্তু কোথাও আমি নাজমা আপার নাম বলতাম না। অথচ উল্টো তারা বলতেন আর নাজমা খানম? আমি বলতাম যে তিনি নির্বাচন করবেন না, কারণ উনি উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন স্বপন ভট্টাচার্য্য বানিয়েছিলেন তাই। এবার সেটা সম্ভব নয় এবং অন্য প্রার্থীদের নিজস্ব কর্মী সমর্থক থাকলেও নাজমা খানমের নিজস্ব কর্মী সমর্থক নেই বললেই চলে।
