কামরুল ইসলাম, অভয়নগর : দেশব্যাপি নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ১০ দফা দাবিতে কর্মবিরতির অংশ বিশেষ নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের রোববার থেকে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নৌ শ্রমিকরা দাবি আদায়ের জন্য রোববার বিকেলে নওয়াপাড়া নগরে মিছিল সমাবেশ করেছে। নৌ-যান শ্রমিকের কর্মবিরতিতে নৌ বন্দরে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
সংগ্রাম কমিটির নের্তৃবৃন্দ জানান, নৌ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃতজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ, বালিবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজার রাত্রিকালে চলাচল নিষিদ্ধ করায় তা শিতলকরণ, নৌপথে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপি কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে নৌযান শ্রমিক কল্যাণ সংগ্রাম পরিষদ।
সারাদেশের ন্যায় রোববার থেকে যশোরের নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরেও পালিত হচ্ছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। ফলে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের ঘাটসমূহে লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে নওয়াপাড়া বন্দরের সকল কার্যক্রম। চলমান সার ও কয়লার মৌসুমে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।
দেশের বৃহত্তম সার, সিমেন্ট, কয়লাা, খাদ্যশস্যের মোকাম নওয়াপাড়ার আমদানিকারক উত্তরা ট্রেডার্সের ম্যানেজার শামছুর রহমান বলেন, জাহাজ থেকে মালামাল লোড আনলোড করতে না পারলে মালের কৃত্রিম সংকট হবে। এতে মালামালের দাম বেড়ে যাবে। আজ কোন মালামাল লোড আনলোড হয়নি। এতে কেনা বেচার সমস্যা হচ্ছে।
অভয়নগর-নওয়াপাড়া হ্যান্ডলিংক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান জানান, জাহাজে লোড আনলোড বন্ধ থাকায় তাদের সংগঠনের ২০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। তিনি নৌ শ্রমিকদের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নওয়াপাড়া নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক রেজাউল করিম জানান, নৌ- বন্দরে তিন শতাধিক জাহাজ নোঙ্গর করা রয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তারা সবাই কর্মবিরতি পালন করছে। তিনি আরো জানান দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা রোববার বিকেলে নওয়াপাড়ায় বিক্ষাভ মিছিল সমাবেশ করেছে। নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম রষিদ নওয়াপাড়া শাখার আহবায়ক রেজাউল করিমের সভাপেিত্ব অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের নেতা রুবেল মাস্টার, জসীম মাস্টার, নাছির মাস্টার, বেলাল মাস্টার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস প্রমুখ।
সরেজমিনে দেখা গেছে নওয়াপাড়ার নৌ-বন্দরে প্রায় ৯৪টি ঘাটে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।
নওয়াপাড়া আভ্যন্তরীণ নদী-বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, নৌ-যান শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে সকল প্রকার লোড আনলোড বন্ধ রয়েছে। সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নওয়াপাড়া সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ জালাল হোসেন বলেন, নৌ-যান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে নওয়াপাড়ায় সকল ঘাট থেকে লোড আনলোড বন্ধ রয়েছে। সার ও কয়লার মৌসুমে সারের মোকাম নওয়াপাড়া বাজারে বিক্রয় বন্ধ থাকায় সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মন্ত্রীর হুশিয়ারিতে নড়েচড়ে বসেছে সড়ক বিভাগ