ইলিয়াস উদ্দীন: যশোরের ঝিকরগাছার কপোতাক্ষ নদর পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সকালে ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগরের কাঁটাখাল এলাকার কপোতাক্ষ নদের খননকাজ পরিদর্শনে এসে আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদসহ নেতৃবৃন্দ দেখতে পান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউনো) নিজেই নদী তট আইন মানছে না। এর ফলে নদের খননকৃত মাটি নদের মধ্যেই ফেলা হচ্ছে। সে কারণেই নদের চেহারা খালের রূপ ধারণ করেছে। নদ খননের আগে এর যে প্রশস্ততা ছিল খননের পরে নদ তার আপন চেহারা ফিরে পাচ্ছে না।
সূত্র মতে, লুনা এন্টারপ্রাইজ কপোতাক্ষ নদের ৫ কিলোমিটার খননকাজ পেয়েছেন। এ কাজের তদারকিতে থাকা সাব ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর খনন হবে ৮ ফুট গভীর এবং সেই গভীরতায় তলদেশের প্রস্থ হবে ১শ ১৫ ফুট। নদের দুই পাড়ের প্রস্থ হবে ১শ ৭৫ ফুট। সেই নিয়মে নদ খননে সন্দেহ আছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শনে আসা কয়েকজন সদস্য। নির্ধারিত সীমানা পর্যন্ত নদের পুনঃখননের কাজ হচ্ছে না বলে উপস্থিত মানুষ অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় কাটাখালের কপোতাক্ষ নদের তীরে বসবাসকারী মৎস্যজীবী শিবু বাছাড়ের বাড়ি। ওই বাড়িটিতে খনন কাজের সীমানা নির্ধারণ করা রয়েছে। অথচ সেই বাড়ির প্রায় ২০ ফুট দূরে নদের পাড়ের মাটি ফেলা হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সুনীল কুমার বিশ্বাস বলেন, নদটি খালের মতো কাটা হচ্ছে। নদটি যদি আগের সীমানায় কাটা হতো তাহলে বিলুপ্ত প্রায় দেশি মাছগুলো আবার দেখা মিলতো।
পঞ্চনগরের নদের পাড়ের মুনতাজ আলী (৫৮) বলেন, ১৯৬২ সালের রেকর্ড মূলে নদের খননের কাজ হচ্ছে না। যার ফলে অনেকের অবৈধ ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ি বেঁচে যাচ্ছে। ছোট কালে যে কপোতাক্ষ দেখেছেন এখন আর নেই।
কাটাখালের আলেয়া খাতুন (৫০) বলেন, গাঙ আগেই মরে গেছে, আগের সেই গাঙ আরও ফিরে পাবো না। কৃষ্ণনগরের ওমর ফারুক (৫৪) বলেন, কপোতাক্ষ নদের বুকে বড় বড় লঞ্চ স্টিমার চলেছে। যেভাবে নদ খনন চলছে তাতে শুধু ডিঙি নৌকায় চলবে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ১১ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে চৌগাছার তাহেরপুর থেকে ঝিকরগাছা হয়ে মণিরামপুরের চাকলা পর্যন্ত মোট ৭৯ কিলোমিটার নদ পুনঃখনন করা হবে। ২০২১ সালের ১ আগস্ট থেকে খনন কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পানি বেশি থাকায় সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের ২ জুন পর্যন্ত। যার চুক্তি মূল্য ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৭ টাকা। খননের গড় প্রস্থ প্রায় ৪৫ দশমিক ৫৫ মিটার এবং গড় গভীরতা ১ দশমিক ৪০ মিটার। এছাড়া খননের তলা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ মিটার।
এই নদ এর উৎপত্তি চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে এবং এটি পরে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায় ভৈরব ও কপোতাক্ষ দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় কাছে শিবসা নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২৩৮ কিলোমিটার (১৪৮ মাইল), গড় প্রস্থ ১৫০ মিটার (৪৯০ ফুট), গভীরতা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৫ মিটার (১১ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৪ ফুট)। এই নদ ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত।
নদ খনন পরিদর্শনকালে তার সাথে ছিলেন উপাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দীন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের ঝিকরগাছার আহবায়ক আব্দুর রহিম, সদস্য রবিউল ইসলাম, শাহিন আহমেদ, শহিদুল আলম স্বপন, শিক্ষক বিমল ঘোষ, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান জসি, আফজাল হোসেন চাঁদ, সোহানুর রহমান সোহান প্রমুখ।