নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া উদ্যোক্তা আইয়াজ উদ্দিন রিপনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন সোনিয়া নামে এক নারী। রিপনের শ্যালক এহসান আহমেদ ফয়সালের সাথে ওই নারীর ‘প্রেম বিরোধের’ সূত্র ধরে অর্থ হাতিয়ে নিতে ভগ্নিপতিকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রিপনের দাবি, তিনি কোন সাবজেক্টই না, শুধুমাত্র টাকা হাতিয়ে নিতেই ফয়সালের ভগ্নিপতি হিসেবে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। যার ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সূত্র মতে, আইয়াজ উদ্দিন রিপনের শ্যালক যশোর শহরের চোপদারপাড়ার ফয়সাল আহম্মেদের সঙ্গে অভয়নগরের সোনিয়ার দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এরপর ওই নারী ফয়সালের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গত বছর ২০ আগস্ট ওই নারী ‘নতুন একটি গল্প’ সাজান। নিজে বিষপান করে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং রিপনের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। যার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যাচ্ছে ‘রিপন ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমার ১০ লাখ টাকা দিক।’ এতো টাকা কি দিতে প্রশ্ন করলে ওই নারী জবাবে বলেন, তাহলে কত দিবে ?

এদিকে, শেষপর্যন্ত রিপন টাকা না দেয়ায় ২৫ আগস্ট রিপন, তার শ্যালক ফয়সালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
অপরদিকে, রিপন ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও নোংরামি করছেন ওই নারী। তিনি রিপনের স্ত্রী ও মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে অশালীন ও আপত্তিকর ছবি ও বার্তা পাঠাতে থাকেন। একটি আইডি বন্ধ হয়ে গেলে আবার নতুন আইডি খুলে একই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে রিপন যশোর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু তারপরও ওই নারীর অপচেষ্টা থেকে নেই। সর্বশেষ শনিবার তিনি প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, বিষ প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো দাবি করেন বিএনপির এক শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করে কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়েছে। মামলা তুলে না নিলে এসিড মারা হবে, হত্যা, গুম করবে বলে দাবি করেন। এমনকি অভিযোগ তোলেন আইনি লড়াই দামাতে না পেরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার পিতা ও ভাইকে বাড়ি ভাংচুর ও হামলা মামলায় আসামি করেছে এবং তার ভাইকে পুলিশ দিয়ে আটকও করিয়েছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি ওই নারী। উপস্থিত সাংবাদিকরা তার পূর্বেও চাঁদা চাওয়া ভিডিও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারিনি, ওই ভিডিও বিভিন্ন সংবাদকর্মীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আইয়াজ উদ্দিন রিপন বলেন, ওই নারী একের পর এক মুখরোচক গল্প সাজিয়ে চলেছেন। আর সেই গল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে আমার নাম। প্রেম করেছিল আমার শ্যালকের সাথে। এখানে আমাকে টেনে আনার অর্থ স্রেফ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। আমি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
