এক সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যশোরের কেশবপুরের দোরমুটিয়া গ্রামের অসহায় মা ছায়রা বেগম। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসার কথা বলে জমি লিখে নিয়েছে ও নগদ টাকা আত্মসাত করেছে ছেলে রবিউল ইসলাম। আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত চাইলে বৃদ্ধ মায়ের হাত ও পা ভেঙে দিয়েছে কুলাঙ্গার ওই ছেলে। এ ঘটনায় মা ছেলের বিরুদ্ধে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ করেন। বর্তমানে ছায়রা বেগম মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিচারের দাবিতে যখন কোনো মা-বাবা সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হন তখন ওই সন্তানদের এই পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার থাকে বলে মনে হয় না। অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে মহান আল্লাহর সৃষ্টি কৌশলে যে মা-বাবার মাধ্যমে সন্তানটি পৃথিবীর আলোর মুখ চোখে দেখে এবং জীবনের সব কিছুর বিনিময়ে যে সন্তানটিকে মা-বাবা লালন পালন করে তোলেন সেই মা-বাবা পড়ন্ত জীবনে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে সন্তানের কাছ থেকে সহযোগিতা পাবার জন্য আইনের কাছে আশ্রয় নিতে হবে এর চেয়ে পাপের খবর আর আছে বলে মনে হয় না।
হাল আমলে এমন ধরনের অমানবিক খবর প্রায় গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। মা-বাবা সন্তানের কাছে কত বড় বোঝা হয়েছে যে তাদেরকে একমুঠো ভাত দিতে সন্তানরা বোঝা মনে করছে। এসব কথা শোনাও বোধ হয় পাপ। অনুভূতিপ্রবণ মানুষের চোখে পানি না এসে পারে না। বাড়ির ইতর প্রাণিটার ওপরও এমন আচরণ কেউ করে না। বৃদ্ধ মা ছায়রা বেগমের ভাগ্যে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।
মানুষ আশরাফুল মখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব। যারা মানুষের সমাজে বাস করেও পশুর মতো আচরণ করে তাদের এ সমাজে বাস করার কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়। বনই তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান। মা-বাবার দোয়া ছাড়া ইহকাল পরকাল কোনো কালেই সন্তানের কল্যাণের আশা নেই। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। ধর্মের এই মর্মবাণী কি তাদের কানে কোনো দিন পৌছায়নি? এা-বাবাকে আশ্রয়ের জন্য আইনের হস্তক্ষেপ কামনা করতে হলো। কিন্তু মা-বাবার প্রতি যদি সন্তানের সম্মান শ্রদ্ধা না থাকে তাহলে ধরে বেধে কি তা আর পাওয়া যায়?
দিন দিন পারিবারিক বন্ধন যে ভাবে শিথিল হচ্ছে তাতে এক দিন দেখা যাবে প্রবীণদের দেখার বা সেবা-যতেœর কেউ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমরা মনে।