এমএম কলেজে অবৈধ পন্থায় শিক্ষক পরিষদের কমিটি গঠন
সালমান হাসান: অবৈধ পন্থায় কমিটি গঠনে করা হয় একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত জালিয়াতি। সভায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলেও অধ্যক্ষের মনোনীতদের নিয়ে গঠন করা হয় কমিটি। তবে সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর শুরু হয়েছে তোলপাড়। সভায় মনোনীত শিক্ষকদের নিয়ে নয়, ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কল্যাণে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে খবরটি জানার পর যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে গঠিত শিক্ষক পরিষদের কমিটি বাতিলের ব্যাপারে জোরালো মতামতও গঠন হয়েছে।
২০২১ সালের জুন মাসে কলেজটির শিক্ষক পরিষদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর কমিটি গঠনে ভোট নিয়ে নানা নাটকীয়তা চলে। শেষতক গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে নির্বাচনবিহীন একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক্ষত্রে সভার সিদ্ধান্তে মনোনীতদের নিয়ে কমিটি গঠন হয়েছে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ এক অফিস আদেশ দিয়ে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। অথচ সভার সিদ্ধান্তের কোথাও মনোনীতদের নিয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
গতবছরের জুলাই মাসের ১৫ তারিখে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সকাল সাড়ে দশটায় অধ্যক্ষের কক্ষ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১০ নম্বর ক্রমিকের আলোচ্যসূচি ‘শিক্ষক পরিষদ নিয়ে আলোচনা’। এটির বিপরীতে সিদ্ধান্তের ঘরে বলা হয়েছে, গঠনতন্ত্র মোতাবেক শিক্ষক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বিধায় আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। প্রফেসর খান শাহাবুদ্দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ড. হারুন অর রশিদ ও প্রদীপ কুমার অধিকারী কমিশনার।
কিন্তু এর ঠিক ১৭ দিনের মাথায় গিয়ে উল্টো কান্ড ঘটে যায়। তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মজিদ অফিস আদেশ দিয়ে মনোনীত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। গত বছরের ৩১ আগস্ট অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে বলা হয়, ১৫ জুলাই একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিধান্ত মোতাবেক মনোনীত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শিক্ষক পরিষদের কমিটি যশোর-২০২১ গঠন করা হলো।
‘যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের কমিটি অবৈধ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর আসল ঘটনা বেরিয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সমালোচনার ঝড়। জানা গেছে, অবৈধ কমিটি ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবিতে একাট্টা হচ্ছেন শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের একটি অংশ জানিয়েছেন, সংবাদটির মাধ্যমে তারা একাডেমিক কাউন্সিলের প্রকৃত সিদ্ধান্তটি জানতে পেরেছেন। তারা বলেছেন, একাডেমিক কাউন্সিলে ক্লাস, পরীক্ষাসহ কলেজের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার জায়গা। আর সেখানকার গৃহীত সিধান্তের নামে অগণতান্ত্রিক পন্থায় যেভাবে কমিটি গঠনেও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে।
কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মজিদ ছিলেন এই কমিটি গঠনের হোতা। বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন। তার দেয়া অফিস আদেশে গঠিত কমিটি এখনও বহাল আছে। কাগজে-কলমে নির্বাচন কমিশন গঠন হলেও ভোটবিহীনভাবে শিক্ষক পরিষদের কমিটি গঠন করা হয়। মনোনায়ন সংগ্রহ করে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক শিক্ষকরা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের জেলা কমিটির সাবেক এক নেতার হুমকি-ধামকিরও শিকার হন।