সাগরদাঁড়িতে বৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড মধুপল্লী, ২৫০ বছরের ঐতিহাসিক বটগাছের পতনে শোকাহত স্থানীয়রা
নিজস্ব প্রতিবেদক
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এর বিখ্যাত চতুর্দশপদী কবিতা ‘বটবৃক্ষ’-এ উল্লেখিত ঐতিহাসিক বটগাছটি বৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। যশোরের সাগরদাঁড়ি-র কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মালোপাড়ায় অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এই গাছটির পতনে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো করে নেমে আসে বৈশাখী ঝড়। মুহূর্তেই তাণ্ডব চালিয়ে সাগরদাঁড়ি এলাকার পাঁচটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। এতে শত শত গাছপালা ভেঙে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সবুজ পরিবেশ।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই ঐতিহাসিক বটগাছটির উপড়ে পড়া। মধুপল্লী-সংলগ্ন মালোপাড়ায় অবস্থিত এই গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক ও সাহিত্যপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বটগাছটির বয়স আনুমানিক ২৫০ বছরেরও বেশি। কবির শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই গাছটি এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুপল্লীর ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা গাছপালা। এরই মধ্যে বিশাল আকারের বটগাছটি শেকড়সহ উপড়ে পড়ে আছে। গাছটির বিস্তৃত ডালপালা ও ঝুরি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, যেন ইতিহাসের এক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে।
সাগরদাঁড়ির সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি সুভাষ দেবনাথ বলেন, “এটি শুধু একটি গাছ ছিল না, এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। গাছটি উপড়ে যাওয়ায় আমরা সবাই মর্মাহত।”
আলোকচিত্রী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু জানান, গাছটির কিছু ঝুরি এখনো মাটির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। সেগুলো সংরক্ষণ করা গেলে অন্তত গাছটির স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখা সম্ভব। তিনি বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও গবেষক কবি খসরু পারভেজ বলেন, “মধুসূদনের ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সঙ্গে এই গাছটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর কিছু অংশ সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা পাবে।”
এদিকে মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঝড়ে মধুপল্লীর ভেতরে আরও অনেক গাছপালার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কেশবপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস বলেন, “বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
#
