৩৪ সড়ক সংস্কারে লাগতে পারে ২০-২৫ কোটি টাকা। প্রতিবছর জোড়াতালি, স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন
রুহুল আমিন
বর্ষা এলেই যেন ভেঙে পড়ে যশোরের সড়ক, আর সড়ক ভাঙলেই খুলে যায় সংস্কারের খাতা। টানা বৃষ্টিতে এবার যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর খানাখন্দ; আবার কোথাও কালভার্ট ও ছোট সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। এতে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন নগরবাসী। ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪টি সড়ক সংস্কারে এবার প্রয়োজন হতে পারে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—প্রতিবছর সংস্কারে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কেন বর্ষা এলেই আবার ভাঙে যশোরের সড়ক?
এক ওয়ার্ডে একাধিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত :
পৌরসভার তালিকা অনুযায়ী, ১ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা রোড মসজিদ থেকে আমতলা মোড়, আমতলা মোড় থেকে ফুলতলা মোড়, নীলগঞ্জ শাহাপাড়া রোড এবং পূর্ব বারান্দী মেইন রোড থেকে লিচুতলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিম বারান্দী মেইন রোড, খালধার রোড ও কাঠেরপুল ব্রিজের দুই পাশের অংশ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পিলুখান রোড, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড ও ঘোপ নওয়াপাড়া রোড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল আজিজ রোডের আবু নাসের ক্লাবের সামনে থেকে ডায়মন্ড প্রেস পর্যন্ত, আবু তালেব সড়ক, পালবাড়ি খয়েরতলা রোড থেকে পাগলাদাহ মোড় এবং ঘোষপাড়া মেইন রোড রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায়।
সবচেয়ে বেশি সড়কের নাম রয়েছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছে হযরত বোরহান শাহ সড়ক, মিশনপাড়া রোড, মুন্সি মেহেরুল্লাহ সড়ক থেকে জজকোর্ট মোড়, মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন সড়ক, খড়কির বামনপাড়া, ধোপাপাড়া, স্টেডিয়ামপাড়া, আপনমোড় ও কবরস্থান রোড।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে এম এম আলী রোড, নিরালা হল থেকে হরিনাথদত্ত রোড, কেশবলাল সড়ক, ভোলাট্যাংক রোড ও ডালমিল সড়ক; ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আশ্রম রোড ও ইসহাক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে পিয়ারী মোহন রোড, বেজপাড়া মেইন রোড, রেল রোড, বেজপাড়া নিউ এস্টেনসন রোড এবং বিহারিপাড়া রোড থেকে গুরগুল্লা মোড় পর্যন্ত সড়ক রয়েছে তালিকায়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কোল্ড স্টোর মোড় থেকে নতুন বাস টার্মিনাল এবং নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া রোড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলাচলেই দুর্ভোগ :
বেজপাড়ার গুরগুল্লা মোড়ের বাসিন্দা মোল্লা জাহিদ বলেন, এবারের বর্ষার পানিতে বেজপাড়া অঞ্চলের কয়েকটি রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরগুল্লা মোড়, বিহারিপাড়া ও আনসার ক্যাম্পের সামনে দিয়ে চলাচলের অবস্থা নেই। অনেকটা নিরূপায় হয়ে মানুষ যাতায়াত করছেন। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা উচিত।
তাঁতিপাড়া সড়কের বাসিন্দা শফিয়ার রহমান কালুর অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। প্রতিবছর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সাময়িক সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
তিনি বলেন, কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়। তাই সারা বছরই মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সড়কে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা দরকার।
ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সংস্কারের আশা :
যশোর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুবা-উর রহমান বলেন, এবারের বর্ষায় ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সড়কের কালভার্ট ও ব্রিজও নষ্ট হয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারকাজ করা হবে। এতে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) শিকদার মোকলেচুর রহমান বলেন, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর পরিমাপের কাজ চলছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ডিসেম্বর বা জানুয়ারি থেকে সংস্কারকাজ শুরুর আশা রয়েছে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজ চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। টেন্ডার হলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর পরিমাপের কাজ শেষ হয়েছে। অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
