কল্যাণ ডেস্ক: আপাতত ক্রিকেট থেকে বিরতি চান বলার সময় সাকিব ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেস্ট খেলতে অনীহার কথা স্পষ্ট করেই বলেছিলেন। তবুও তাকে তিন সংস্করণের চুক্তিতে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গতবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরার পর সাকিবের থেকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে তার কিছু মন্তব্যের জন্যই প্রশ্ন উঠছে। বয়স বাড়ছে, তিন সংস্করণে একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন কত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার তুলেছেন তিনি।
দুবাই যাওয়ার আগে গত রোববার রাতে বিমানবন্দরে সাকিব জানান, নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো উপযুক্ত মনে হচ্ছে না তার। এই মুহূর্তে নিজেকে মনে হচ্ছে ‘প্যাসেঞ্জার’, উপভোগ করতে পারছেন না ক্রিকেট।
শুরুতে নাম থাকলেও তার চাওয়া অনুযায়ীই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বিমানবন্দরে এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেছিলেন, সাদা বলে পরপর দুটি বিশ্বকাপ থাকায় এই সময়টায় তিনি পুরো মনোযোগ দিতে চান সাদা বলে। এরপরও লাল বলের চুক্তিতে আছেন তিনি।
গতবারের মতো এবারও ভিন্ন সংস্করণের জন্য ভিন্ন চুক্তি করেছে বিসিবি। তিন সংস্করণে সাকিবের সঙ্গে আছেন গেলবারের চারজনই- মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত বছর মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল চুক্তি। এবারের মেয়াদ বরাবরের মতোই জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ছয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিরতি নেওয়া তামিম ইকবাল আছেন টেস্ট ও ওয়ানডের চুক্তিতে। সেখানে তার সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ। গতবার এই দুই জনের সঙ্গে ছিলেন তাইজুল ইসলামও। এবার তিনি আছেন কেবল টেস্টের চুক্তিতে। গত বছর কোনো ওয়ানডে না খেলেই এই সংস্করণের চুক্তিতে জায়গা হারালেন তাইজুল। বাঁহাতি এই স্পিনার সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে।
চোটের জন্য দলের বাইরে থাকা পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন। আছেন গতবার এই চুক্তিতে থাকা বাকি তিন জন- মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
শুধু টেস্টের চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন পেসার আবু জায়েদ চৌধুরি ও ওপেনার সাইফ হাসান। যুক্ত হয়েছেন ইয়াসির আলি চৌধুরি ও মাহমুদুল হাসান জয়। দুই জনই প্রথমবারের মতো এসেছেন চুক্তিতে।
জাতীয় দলে জায়গা হারানো সৌম্য সরকার বাদ পড়েছেন টি-টোয়েন্টির চুক্তি থেকেও। গতবার জায়গা পাওয়া শামীম হোসেনও নেই টানা ব্যর্থতায়। টি-টোয়েন্টিতে মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও চুক্তিতে টিকে গেছেন তরুণ এই বাঁহাতি ওপেনার। এখানে যুক্ত হয়নি নতুন কোনো নাম।
চুক্তিতে আছেন যারা-তিন সংস্করণে: মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।
টেস্ট ও ওয়ানডে: তামিম ইকবাল খান, মেহেদী হাসান মিরাজ।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি: মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজুর রহমান, আফিফ হোসেন।
শুধু টেস্টে: মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাদমান ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরি, ইয়াসির আলি চৌধুরি, মাহমুদুল হাসান জয়।
শুধু টি-টোয়েন্টিতে: মোহাম্মদ নাঈম শেখ, শেখ মেহেদি হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাসুম আহমেদ।