নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে কাস্টমসের সরকারি গোড়াউন থেকে চুরিকৃত পণ্য চালান পাচারের সময় বিজিবি’র হাতে আটক। গত ৪ (ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় বেনাপোল কাস্টম হাউসের কাস্টমস গোডাউনের দায়িত্বরত রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান চৌধুরীকে পণ্য চালানসহ আটক করে বিজিবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেনাপোল দিঘীরপাড় ফায়ারসার্ভিসের সামনে থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-৭৫৬৪ নাম্বারের প্রাইভেটকার থেকে বিপুল পরিমান শাড়ি,থ্রিপিছ-কসমেটিক্স আটক করে বিজিবি। তবে বিজিবি পণ্য আটক করলেও কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেন তারা।
কাস্টমস সূত্র জানা যায়, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধায় আনা লাখ লাখ টাকার পণ্য (ডিএম) স্লিপ ও বাজেয়াপ্ত করে কাস্টমস গোডাউনে জমা করে নিলাম করে থাকে। গত ৩ মাস এসব আটক পণ্যের কোন নিলাম হয়নি। কাস্টমস গোডাউন সাইডে কর্মরত এনজিও কর্মী রহিম ও জিসান একটি শক্তিশালী পণ্য চুরি ও বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সেখান থেকে গোডাউন কর্মকতার যোগসাজসে দেদারছে কাস্টমস গোডাউন থেকে পণ্য চুরি করে বিক্রি করে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বহিরাগত এনজিও রহিম ও জিসান দীর্ঘ বছরধরে বেনাপোল কাস্টম গোডাউনে কাজ করে আসছে। তাদের মাধ্যমে চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন থেকে হাউসের গোডাউনে পণ্য চালান পাঠানো হয়ে থাকে। এসব কাজে তারা সিন্ডিকেট চক্রের বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে পথে মধ্যে পণ্য নেমে চলে যায় সিন্ডিকেটের হাতে। গোডাউন শাখায় খাতা কলমে মিল থাকলেও বাস্তবে কোন পণ্যর হদিস নেই।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য জানান, বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনে গড়ে উঠা একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার পণ্য চুরি হয়ে থাকে। কে কার খোঁজ রাখে। বহিরাগত রহিম ও জিসানের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার সরকারি কোষাগারের পণ্য বাহিরে বিক্রি হচ্ছে। স্বচ্ছ হিসাব না থাকার কারনে অধরা এই সিন্ডিকেট এর সাথে আবার গোডউন সাইডের সবার সখ্যতাই বিভিন্ন কৌশলে চলছে পন্য চুরি।
ঘটনা বর্ণনাতে এনজিও রহিম জানায়, বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনে আরিফ স্যার ছুটিতে যাবে বলে আমাকে একটি গাড়ি ঠিক করে দিতে বললে আমি প্রাইভেট চালক কামাল ভাইকে ঠিক করে দেই। পরে দিঘীরপাড়ে বিজিবির হাতে আটক হলে স্যার আমাকে ফোন করলে আমি ঘটনাস্থলে যায়। গিয়ে বিজিবি গাড়িসহ কয়েক বস্তা মালামাল সহ আটক করে রেখেছে দেখতে পাই। পরে স্যার কাস্টমসের উদ্ধর্ত্বন কর্মকর্তার মাধ্যমে ছাড়া পেলে আমি স্যারকে মটরসাইকেলে করে হাউসে নিয়ে আসি।
দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির শার্শা উপজেলা কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের নিকট থেকে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য আটক করে কাস্টমসের গোডাউনে জমা করা হয়। আর এই পণ্য যদি কর্মকর্তার মাধ্যমে চুরি হয়ে যায় বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। এর আগেও কাস্টম কর্মকর্তাদের দায়িত্বের অবহেলার কারনে কাস্টমস ভল্ট থেকে স্বর্ন ও ডলার চুরি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে কাস্টমস গোডাউন থেকে পণ্য চুরির সিন্ডিকেট ছিলো জানতাম। কিন্তু এখনও পণ্য চুরি হচ্ছে প্রমান পাওয়া গেছে। আমি কাস্টমস কমিশনার সহ গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি। এছাড়া দুদক সহ প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য বাহিনীদ্বারা অভিযান পরিচালনা করে বহিরাগত জড়িত এনজিও কর্মী রহিম ও জিসানকে আটকসহ পণ্য চুরির সাথে জড়িতদের আইনের আওতার আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ভাই একটু অফিসে আসেন সামনা সামনি কথা বলি। এটাই তার বক্তব্য কি বললে তিনি অফিসে চায়ের দাওয়াত দেন। এছাড়া গোডাউনে বহিরাগত কারও কাজ করার অনুমতি আছে কি জানতে চাইলে তিনি বলেন বহু বছর ধরে এভাবে চলে আসছে।
