গাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার দাবি প্রশাসনের, ‘ষড়যন্ত্র’ বলছে দল
কল্যাণ ডেস্ক
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, পুরো ঘটনাটি ‘ষড়যন্ত্র’।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে তাঁকে থানায় আনা হয়।
আটক হাবিবুর রহমান হেলালী উপজেলার ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তাঁর বাড়িও সেখানে। তিনি ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন হাবিবুর রহমান হেলালী। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ১ হাজার টাকার দুটি বান্ডিলে মোট ২ লাখ টাকা উদ্ধার করে তাঁকে মুরাদনগর থানায় নেওয়া হয়।
আটকের পর অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান হেলালী দাবি করেন, তাঁর কাছে এত টাকা ছিল না। নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা ছিল। তাঁর গাড়িতে জোর করে অতিরিক্ত টাকা রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
একই দাবি করেছেন মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস। তিনি বলেন, ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে দলের দায়িত্বশীল কেউ না থাকায় ধামঘর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান হেলালীকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সকালে তিনি নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিএনপির লোকজন তাঁকে আটক করে। পরে একটি বাজারের ব্যাগে দুই লাখ টাকা ভরে তাঁর গাড়ির পেছনে রেখে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত কুমিল্লা-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় টাকা বিতরণ করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। সকালে স্থানীয়রা হাতেনাতে একজনকে আটক করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, জামায়াত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।
বেলা ৩টার দিকে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, টাকা বিতরণের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। যেহেতু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি টাকা বিতরণের সময় তাঁকে আটক করতে পারেননি, তাই বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে। তিনি এসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ সোহেল লড়ছেন।
