নিজস্ব প্রতিবেদক, মনিরামপুর
যশোরের মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র বিতরণের সময় কলেজের প্রধান সহকারী আতিয়ার রহমান ও অফিস সহায়ক ইউসুফ আলী ২২৩ ছাত্রীর কাছ থেকে ৭০ টাকা করে আদায় করেছেন। কলেজের হিসাবরক্ষক আব্দুল আজিজের যোগসাজশে এই অর্থ আদায় করে হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আফরোজা মাহমুদের দাবি টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিভিন্ন বিভাগে ৩৫৮ জন ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার ২২৩ জন ছাত্রী কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেছে।
কলেজের মানবিক শাখার পরীক্ষার্থী ভাবনা আনোয়ার মধু জানায়, মঙ্গলবার কলেজ থেকে আমরা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেছি। আমাদের কাছ থেকে ৭০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
কলেজের হিসাবরক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, প্রবেশপত্র বাইরে থেকে ছাপানো হয়েছে। এজন্য ২০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য ১০ টাকা খরচ হয়েছে। অন্ধ কল্যাণ সংস্থার জন্য ডিসি-ইউএনওর স্বাক্ষরিত চিঠি আছে। এজন্য ১০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
কলেজের একাধিক সূত্র বলছে, প্রতি বছর পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় প্রধান অফিস সহকারী আতিয়ার রহমান ও হিসাবরক্ষক আব্দুল আজিজ টাকা নিয়ে থাকেন। যে টাকা আদায় হয় তারা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। টাকা নিতে নিষেধ করা হলেও তারা কারও কথা শোনেন না।
ইউসুফ আলী বলেন, আমাকে অফিসের হেড কেলার্ক প্রবেশপত্র বাবদ ৫০ টাকা করে নিতে বলেছেন। আজ ২২৩ জন প্রবেশপত্র নিয়েছে। আমি সব টাকা হেড কেলার্ককে বুঝিয়ে দিয়েছি। প্রধান সহকারী আতিয়ার রহমান বলেন, ৩০ টাকা বাড়তি নেওয়া হয়েছে। এটা কর্মচারীরা ভাগ করে নেন।
মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা মাহমুদ বলেন, প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কেনো নিয়েছে সেটা অফিসের আজিজ ও আতিয়ার ভালো বলতে পারবেন।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে একাধিকবার তাকে কল করা হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি।
